প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার্থে হাওরাঞ্চলে ফ্লোটিং হাউস

   
প্রকাশিত: ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ, ৩ আগস্ট ২০২২

হাওরাঞ্চলে যাদের ঘর অবস্থিত এবং যারা অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে ইচ্ছুক নয় তাদের জন্য বেসরকারি ভাবে ব্যাতিক্রম ফ্লোটিং হাউস-ভাসমান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সুনামগঞ্জে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার্থে হাওরে ফ্লোটিং হাউস-ভাসমান এরকম ঘর স্থাপন অনুকরণীয় হতে পারে বলে মনে করছেন জেলার সচেতন মহল। কারন বন্যায় পানি বৃদ্ধি হলে ঘরটির প্লাটফর্ম ও সমানুপাতিক ভাবে উঁচুতে উঠবে। এমন উদ্যোগকে সময় উপযোগী বলে স্বাগত জানিয়েছেন।

সোমবার (১ আগষ্ট) বিকেলে আনুষ্ঠানিক ভাবে বন্যায় ক্ষতি গ্রস্থ সমীর দাসকে ২টি শোবার ঘর ও ১টি রান্নাঘর বিশিষ্ট ভাসমান ঘরটি হস্তান্তর করেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাদিদ আহমেদ। এমন ঘর পেয়ে খুব খুশি উপরকার ভোগী সমীর দাস।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর, দক্ষিণ বাদাঘাট ও পলাশ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের শতভাগ ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। সরকারি ভাবে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৭১৭টি পরিবারকে নগদ অর্থ ও ঢেউটিন এবং বেসরকারি উদ্যোগে ৭৩টি পরিবারকে ঢেউটিন প্রদান করা হয়েছে।

আরও জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ তালুত বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার্থে ভাসমান ঘরের প্রয়োজনীয়তা ও আইডিয়া দিলে বেসরকারি ভাবে কিছু ফান্ড কালেকশন করা হয়। পরে উপজেলার প্যারিনগরে অবস্থিত পূর্নাঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত সমীর দাসের ঘর পরিদর্শন করে এবং ভাসমান ঘর স্থাপনের স্থান নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে হাওর বিলাসের সামনে স্থাপিত ভাসমান হাওর ভিউ ক্যাফের আদলে প্লাটফর্ম তৈরি করে স্থানীয় মিস্ত্রি নজরুল ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মাত্র ১৪দিনে ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ২টি শোবার ঘর ও ১টি রান্নাঘর বিশিষ্ট ঘরটি হস্তান্তর করা হয়। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাদিদ আহমেদ।

তিনি আরও জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিশিং উপযোগী স্থানে এরকম ফ্লোটিং ভিলেজ কনসেপ্ট চালু রয়েছে। আর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বন্যায় এই ঘরটি হাওরাঞ্চলে মানুষের উপকারে লাগবে। বন্যায় পানি বৃদ্ধি হলে ঘরটির প্লাটফর্মও সমানুপাতিক ভাবে উঁচুতে উঠবে।

ঘরটি তৈরি করতে দু-লাখ তিশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তা সম্পূর্ণ বেসকারী উদ্যোগে আমার কয়েকজন বন্ধুর দেয়া অর্থায়নে আমি আমার অধিনস্থ কর্মকর্তাগন সহযোগিতা করেছেন। আরও অর্থ সংগ্রহ করতে পারলে এমন আরও ঘর তৈরি করে অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: