প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

কামরুজ্জামান জসিম

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

পদ্মা সেতু ঘিরে মোংলা বন্দরে ব্যাপক শিল্পায়নের হাতছানি

   
প্রকাশিত: ৩:২৮ অপরাহ্ণ, ৩ আগস্ট ২০২২

দেশের বৃহত্তম মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু চালু হয়েছে চলতি বছরের ২৫ জুন। সেতু চালু হওয়ার পর থেকে খুলে গেছে অপার সম্ভাবনাময় দক্ষিনাঞ্চলের দুয়ার। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক পথে দূরত্ব কম হওয়ায় আমদানি- রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নজর এখন মোংলা বন্দরের দিকে। এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বা রপ্তানি করলে খরচ এবং সময় দুটোই সাশ্রয় হবে বলেই ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়নগঞ্জের গার্মেন্টস মালিকরা ঝুঁকছেন মোংলার দিকে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় একদিকে যেমন মোংলা বন্দরের আমদানি- রপ্তানী বাড়বে তেমনি এখানে ব্যাপক শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। ইতিমধ্যে বন্দরে জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে বেশকিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান। এখানে বড় আকারের শিল্পকারখানা হলে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরী হবে। বন্দরের রাজস্ব আয় বাড়বে।

সূত্রটি আরো জানায়, এতদিন মোংলা বন্দর দিয়ে বেশিরভাগ পণ্য আমদানি হলেও পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এখন থেকে পণ্য রপ্তানি তুলনামূলকভাবে বাড়বে। গত ২৮ জুলাই ঢাকার ২৭ টি গার্মেন্টেসের পণ্য মোংলা বন্দর দিয়ে ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে রপ্তানি করা হয়েছে। বিদায়ী অর্থ বছরে মোংলা বন্দরে মোট জাহাজ এসেছে ৮৮৭ টি। বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ১৪০ কোটি টাকার উপরে। চট্রগ্রাম বন্দরকে পিছনে ফেলে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানিতে রেকর্ড গড়েছে মোংলা বন্দর। বিদায়ী অর্থ বছরে এ বন্দর দিয়ে মোট ২০ হাজার ৮০৮ টি গাড়ি আমদানি করা হয়। আর চট্রগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয় ১৩ হাজার ৯২০টি। এছাড়াও দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চুল্লি, যন্ত্রপাতি এবং মেট্রোরেলের কোচ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি এ বন্দর দিয়ে খালাস করা হয়।

এদিকে পদ্মা সেতু ঘিরে বাগেরহাটের কাটাখালি থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত বড় বড় শিল্প গ্রুপ জমি কিনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে। অনেক শিল্প কারকাখনার নির্মাণ কাজ শেষে এখন উৎপাদনের অপেক্ষায়। কারখানাগুলো চালু হলে লাখ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর মোংলা বন্দর এখন স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছে। এখন থেকে প্রতিনিয়ত এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাড়বে। ইনারবার ড্রেজিং সম্পন্ন হলে বড় বড় জাহাজ বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে যা যা প্রয়োজন তার সবকিছুই করা হয়েছে। জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে ইতিমধ্যে ক্রেন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। তাছাড়া এখানে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হবে, বিনিয়োগ বাড়বে পাশাপাশি বন্দরের রাজস্ব আরও বাড়বে।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: