প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

সাজ্জাদুল আলম শাওন

জামালপুর প্রতিনিধি

বাহাদুরাবাদ-বালাসী ফেরিঘাটে যাত্রী হয়রানী

   
প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, ৪ আগস্ট ২০২২

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডাব্লুউ টিএ লঞ্চ টার্মিনাল বাহাদুরাবাদ-বালাসী ফেরিঘাটে নৌপথে যাত্রী হয়রানী চরমে পৌছেছে। দুই ঘাটের একই ব্যাক্তি অনুমোদিত লঞ্চের পরিবর্তে সিন্ডিকেট করে যাত্রীদের কাছে দুইশত টাকা লঞ্চের ভারা নিয়ে লঞ্চ না চলার নানান অজুহাত দেখিয়ে কাঠের অবৈধ নৌকায় যাত্রী পারাপার করছে। এই নিয়ে বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতি‘র অভিযোগের আবেদনে গত ৩১জুলাই বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বাহাদুরাবাদ-বালাসী ফেরিঘাটে নৌপথে অবৈধ ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচল বন্ধের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, অভ্যন্তরীন নৌযোযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের অংশ হিসাবে বালাসী ও বাহাদুরাবাদ ফেরীঘাটসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ ‘শীর্ষক ক প্রকল্পের আওতায় বিআই ডব্লিউটিএ জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট হতে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী ঘাট নৌপথ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌচলাচলের উপযোগী করেছে।

এই নৌপথে পূর্ব থেকেই ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী পারাপার হতো। চলাচলকৃত এ সকল ট্রলার বৈধ কোন কাগজ পত্র নেই এবং প্রমত্তা যমুনা নদীতে এগুলোর চলাচল সম্পুর্ণরুপে ঝুকিঁ এবং অবৈধ। প্রকল্পের আওতায় নাব্যতা উন্নয়নের ফলে এই নৌ পথে লঞ্চ সার্ভিস প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই প্রয়োজনীয়তা নিরীখে এবং দেশের নৌপথে নতুন লঞ্চ সার্ভিস প্রবর্তনের স্বার্থে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এবছর ৯ এপ্রিল উক্ত নৌ পথে নতুনভাবে লঞ্চ সার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে এই নৌ পথে বিআই ডব্লিউটিএ ৬টি লঞ্চের অনুকূলে ৬টি সার্ভিসে রুটপারমিট, সময়সূচি জারি রয়েছে। তবে বাহাদুরাবাদ ও বালাসীঘাটের ইজারাদার সোহানুর রহমান উক্ত নৌপথে অবৈধ যাত্রীবাহী ট্রলার পরিচালনা করে অনুমদিত বৈধ যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করছেন। অথচ্য অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর ৩নং ধারানুযায়ী ১৬হর্স পাওয়ারের উর্দ্ধে ক্ষমতা সম্পন্ন নৌযান রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস এর আওতায় আসা এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন নৌরুট পারমিট, সময় সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ বিধিমালা, ২০১৯এর ১(২) ও ৪নং ধারানুযায়ী রুটপারমিট ও সময়সূচি গ্রহন করে নৌপথে চলাচল করার আইনানুগ বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ইজারাদার কর্তৃক পরিচালিত যাত্রী বাহী ট্রলার/নৌযানগুলোর কোন ধরণের রেজিস্ট্রেশন, সার্ভে সনদ নেই।

তাছাড়া রুটপারমিট, সময়সূচি বিহীন যাত্রীবাহী ট্রলার/নৌযান দ্বারা বাহহাদুরাবাদ-বালাসী নৌপথে ইজাদার যাত্রী পরিবহন করছেন এবং বৈধভাবে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। যা অবৈধ যাত্রীবাহী ট্রলারযোগে এরুপ যাত্রী পারাপার যাত্রী জানমালের নিরাপত্তার জন্য হুমকীস্বরুপ এবং নৌচলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬এর সংশ্লিষ্ট ধারার পরিপন্থী।

এমতাবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা যাতায়াতের সবিধার্থে বাহাদুরাদ-বালাসী নৌপথে অবৈধ ইঞ্জিন চালিত যাত্রীবাহী নৌকা চলাচল করে সেখানে রুটপারমিট, সময়সূচিধারী ৬টি লঞ্চকে চলাচলের প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার শেফা জানিয়েছেন, বাহাদুরাবাদ-বালাসী নৌপথে অবৈধ ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচল বন্ধের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ নির্দেশনা একটি চিঠি পেয়েছি। বিআইডব্লিউটিএ নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভারপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ফোনে জানান, এব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: