প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

আবু রায়হান সরকার

নোয়াখালি প্রতিনিধি

ছাত্র ছদ্মবেশে চুরি, অবশেষে গ্রেফতার

   
প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ণ, ৭ আগস্ট ২০২২

নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা ও সুধারাম থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে। শুক্রবার রাতে রাজধানী ঢাকার ডেমরা ও বাড্ডা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মুন্সিগঞ্জ জেলার আশুলির চর পুর্বকান্দি গ্রামের আশিকুল ইসলাম (৩০) ও খুলনার সোনাডাঙ্গার নিরালা বাজারের মামুন মোল্লা (২৮)।

এ সময় তাদের কাছে থেকে চারটি স্বর্ণের আংটি, এক জোড়া কানের দুল, একটি স্বর্ণের চেইন, একটি লকেট, এক জোড়া রুপার চুড়ি, দুই জোড়া নুপুর, একটি ব্রেসলেট, একটি ল্যাপটপ, নগদ পাঁচ হাজার নয়শ টাকা, দুইটি মোবাইল ও চোরাইকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (৭ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য বিডি২৪লাইভকে নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোঃ শহীদুল ইসলাম(পিপিএম)।তিনি জানান, এপ্রিল মাসের চার তারিখে নোয়াখালীর মাইজদীর মাস্টার পাড়ায় গোল্ডেন প্যালেসের দ্বিতীয় তলায় ফাতেমা বেগমের বাসায় দরজার তালা ভেঙ্গে দুর্ধর্ষ চুরি হয়। ছাত্র, ফেরিওয়ালা,সার্ভিস ম্যানসহ বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে চোর চক্রের একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে দিনে দুপুরে চুরি করে থাকে। গোল্ডেন প্যালেসে চুরি হওয়ার ঘটনায় সুধারাম থানায় একটি মামলা হলে পুলিশ এ চোর চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাঠে নামে।বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ও চুরি হওয়ার সময় বাসার সিসি টিভির ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চোর চক্রের সদস্যদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

শুক্রবার রাতে রাজধানী ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে প্রথমে আশিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্য অনুসারে ডেমরা এলাকা থেকে মামুন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আশিকুল ইসলামের ডেমরার কোনাপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে চোরাই বিপুল পরিমান স্বর্ণালংকার নগদ টাকা, একটি ল্যাপটপ, মোবাইল ও চোরাইকাজে ব্যবহ্নত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান,গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে চোর চক্রের প্রধান তাদেরকে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে এ কাজে নিয়োগ করে। তাদেরকে প্রথমে কিভাবে বাসা বাড়িতে চুরি করতে হয় তার প্রশিক্ষণ দিয়ে তার পর বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যায় এবং সেখানে হোটেল রেখে তার পর চিহিৃত বাসা ও অফিসে দিনে দুপুরে চুরি করে থাকে।

চোর চক্রের দুই সদস্য আাশিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কুমিল্লার দেবীদ্বার থানায় ও ডিএমপিতে দুইটি মামলাও মামুন মোল্লার বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতয়ালী ও ডিএমপিতে দুটি মামলা রয়েছে। পুলিশ তাদের প্রধান মাস্টারমাইন্ডকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই দুইজনকে নোয়াখালী বিচারিক আদালতে প্রেরণ করে আরো ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে বলেও পুলিশ সুপার জানান।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: