প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

তিন যুগের বেশি সময় ধরে শিক্ষকসহ জনবল সংকটে তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়

   
প্রকাশিত: ১২:১১ অপরাহ্ণ, ১২ আগস্ট ২০২২

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকসহ জনবল সংকটের কারনে বিপর্যয়স্থ হয়ে পরেছে বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রম। এর রেশ পরেছে এক সময়ের সুনামধন্য সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়টিতে। প্রতি বছরেই ফলাফলে ধস নেমেছে। এই অবস্থায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছে উপজেলার সচেতন মহল ও অভিভাবক মহলে।

বিদ্যালয়টিতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৭ সাল থেকে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষক সংকটে ভোগছে কিন্তু সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা এই বিষয়ে সমাধানে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। ফলে প্রতি বছরেই সাত শতাধিক শিক্ষার্থীর ফলাফলে ধস নামছে। যেখানে শিক্ষক সংকটে পাঠ্যদান করাই কঠিন সেখানে ডেপুটেশননে আছেন একজন শিক্ষক। তিনি কিভাবে এই সংকটের মধ্যে ডেপুটেশন অন্যত্র থাকার সুযোগ পান, কিভাবেই বদলী হয় আর কিভাবেই উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ অনুমতি দেন প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিবভাবকগন।

আরও জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গনিতের শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষক ১, সহকারী প্রধান শিক্ষক ১জন, সহকারী শিক্ষক ৪জন, অফিস সহকারী ১, পিয়ন ২, নাইটগাট ১, মালি ১ সংকট রয়েছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষক সহ জনবল সংকটের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে।

অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা রুকন উদ্দিন তালুকদার জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সহ জনবল সংকটের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে। দিন দিন শিক্ষার মান নিন্মমুখি হচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উচিত দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

প্রথমে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এহসানুল হক আবির জানান, বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক সংকটের কারনে আমাদের এই বিদ্যালয়টির সকল শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে ক্লাস করতে পারছেন না। নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য জোড় দাবী জানাই।

শিক্ষার্থী দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নলিমা আক্তার মায়া জানান, শিক্ষক সংকট দুর করা না হলে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাল ফলাফল করতে পারছে না, নিয়মিত পাঠাদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের স্কুলে ফলাফল খারাপ হওয়ায় সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

ইংরেজি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ জাহিদুল কামাল বলেছেন, তিনি ইংরেজির শিক্ষক হলেও শিক্ষক সংকটের কারনে তাকে একাধিক ক্লাসের পাঠ্যদান করতে হয় এতে করে চাপ বেড়ে যায়। শিক্ষক সংকটের কারনে আমরা যারা শিক্ষক আছি তারা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি।

ভৌত বিজ্ঞানের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, সৃষ্ট পদ ও সৃষ্টতব্য পদের কারনে শিক্ষক সংকট লেগেই আছে গত তিন যুগের বেশি সময় ধরে। এতে করে বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে শিক্ষকগনও নিজেদের মধ্যে দ্বিধা দন্দের মধ্যে থাকেন সিদ্ধান্ত নিয়ে। ধ্বংসের মুখে থাকা বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন কঠোর নজরদারির করলে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল কদ্দুস জানান, অফিস সহকারী না থাকায় দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককেই সকল কাজ করতে হয়। শিক্ষা সংকটের মধ্যে একজন ডেপুটেশন আছে তিনি থাকলেও উপকার হত। শিক্ষক সংকটসহ প্রতিষ্ঠানটির জনবল সংকটের বিষয়ে বারবার উর্ধবতন কতৃপক্ষের কাছে জানানো হলেও আজও কোনো কাজ হয় নি। ফলে সাত শতাধিক শিক্ষার্থীর এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমে চরম ব্যাগাত সৃষ্টি হয়েছে।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: