প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

আব্দুল ওয়াদুদ

বগুড়া প্রতিনিধি

পাঁচ রুটের সবধরণের যান চলাচল বন্ধ, চড়ম ভোগান্তি

   
প্রকাশিত: ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, ১৩ আগস্ট ২০২২

বগুড়ার শেরপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়কে ভস্তার বিল খালের ওপর নির্মিত বেইলী ব্রীজের পাটাতন (লোহার পাত) ও ট্যাঙ্ক জাম ভেঙে গেছে। এতে করে ওই সড়কটি ব্যবহার করে চলা পাঁচ রুটের সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শনিবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের বোয়ালকান্দি ব্রীজের ওপর দিয়ে এই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ করেই এমন অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এই অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ। এরপরও এই দুর্ভোগ মাথায় নিয়েই ওই ব্রীজ এলাকায় নৌকায় চড়ে খাল পারাপার হয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাচ্ছেন তাঁরা।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রীজটি মেরামত কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তা ও তাদের নিয়োজিত ব্যক্তিরা। কিন্তু চলাচলের কোনো বিকল্প পথ রাখা হয়নি। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ব্রীজটি মেরামত কাজের কারণে এই সীমাহীন ভোগান্তি তৈরী হয়েছে সাধারণ মানুষের। তবে আগামি তিনদিনের মধ্যে মেরামত কাজ শেষ হবে। তখন যান চলাচলের জন্য ব্রীজটি খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেরপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়কে বেশকয়েকটি বেইলী ব্রীজ রয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরণো ও মেয়াদ উর্ত্তীণ পড়া এসব ব্রীজ যান চলাচলের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই মাঝেমধ্যেই ব্রীজগুলোর পাটাতন দেবে ও ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এরই ধারাবাহিকতায় বোয়ালকান্দি নামক স্থানে নির্মিত বেইলী ব্রীজের একাংশের পাটাতন ও ট্যাঙ্ক জাম ভেঙে গেছে। এতে করে বন্ধ হয়ে গেছে শেরপুর, ধুনট, কাজীপুর, সোনামুখি ও মথুরাপুর রুটে চলাচলকারী সব ধরণের যানবাহন চলাচল। ফলে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জোরাতালি দিয়ে মেরামতের জন্য ব্রীজটির ভেঙে যাওয়া পাটাতন ও ট্যাঙ্ক জাম (লোহার পাতি) খুলে ফেলা হচ্ছে। বেশকয়েকজন শ্রমিক এই কাজে ব্যস্ত। ব্রীজের ওপর যেন কোনো যানবাহন উঠতে না পারে সেজন্য ব্রীজের মুখেই বাঁশ দিয়ে বেরিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্রীজে যান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেইে নৌকায় চড়ে খাল পারাপার হয়ে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছেন। আবার অনেকেই বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ৭-৮ কিলোমিটার পথও পাড়ি দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এসময় কথা হয় গোলাম রব্বানী নামের এক ধান-চাল ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ব্যবসায়িক কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে ধুনট যাচ্ছিলেন। কিন্তু বেইলী ব্রীজটি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন। একপর্যায়ে সাত-আট কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ঘুরে ঘুরে সেখানে যান তিনি।

সালমা বেগম বলেন, তাঁর মেয়ের চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহরে যাচ্ছেন। কিন্তু পথিমধ্যে বোয়ালকান্দি ব্রীজের পূর্বপাশে বাস থেকে নেমে দেওয়া হয় তাঁকে। সেইসঙ্গে বিকল্প যানবাহনে যেতে বলা হয়। কারণ হিসেবে মেরামতের জন্য ব্রীজন বন্ধ রয়েছে বলে জানান। তাই নৌকায় খাল পার হয়ে ব্রীজের পশ্চিম পাশ থেকে সিএনজিতে উঠে বগুড়ায় যাচ্ছেন। এতে করে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে দাবি করেন ওই নারী ভুক্তভোগী।

জাহিদুল ইসলাম, নকুল কুমারসহ একাধিক বাস চালক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজগুলোতে ভয়ে ভয়ে যাতায়াত করে থাকেন। তাছাড়া মাঝেমধ্যেই কোনো না কোনো একটি ব্রীজের পাটাতন ভেঙে এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অত্র খানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পিয়ার হোসেন পিয়ার বলেন, বেইলী ব্রীজগুলো বেশ পুরণো তাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এমনকি যে কোনো সময় ব্রীজ ভেঙে পড়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। তাই জোরাতালি দিয়ে ব্রীজ মেরামত না করে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। এজন্য আরসিসি ঢালাই সেতু নির্মাণের বিকল্প নেই। তাহলেই কেবল এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন এই অঞ্চলের মানুষ।

জানতে চাইলে বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, ওই ব্রীজটির পাটাতন ও ট্যাঙ্ক জাম ভেঙে গেছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রীজটির মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছে। তাই সাময়িক তিনদিনের জন্য যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, এসব ব্রীজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার বিষয়টি ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে এসব বেইলী ব্রীজের স্থানে আরসিসি ঢালাই সেতু নির্মাণের প্রস্তাবও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এটি বাস্তবায়িত হবে বলে দাবি করেন তিনি।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: