প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মোঃ হাবিবুর রহমান

নড়াইল প্রতিনিধি

হামলায় কিশোরের মৃত্যু, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট

   
প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ণ, ১৪ আগস্ট ২০২২

নড়াইলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত কিশোরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার কর্মচঁন্দ্রপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হাতুড়িপেটার শিকার হয়ে জুয়েল ভূইয়া নামে এক কিশোর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৩ আগষ্ট) সন্ধায় মৃত্যু হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের প্রতিপক্ষের ১০-১২টির মত বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে চার পুলিশ সদস্য আহত হলে পুলিশকে ফাঁকাগুলি ছুড়তে হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত ১০ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কর্মচঁন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার কদার পক্ষ ও ইকরাম মোল্য পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্রকরে ইতিপূর্বে একাধিক সংঘাত সংঘর্ষে রক্তপাতের ঘটনায় উভয়পক্ষে মামলা মকদ্দমা চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় হামলার শিকার হয় পান্নু ভূইয়ার ছেলে জুয়েল।

জুয়েল পার্শ্ববর্তী মাদরাসা একটি সবজির আড়তে কাজ করতো। গত মঙ্গলবার (৯ আগষ্ট) সকালে প্রতিদিনের মতো সে সকালে কাজে যাওয়ার সময়, গ্রাম্য বিবাদে নিরিহ কিশোর জুয়েলের কোন প্রকার সম্পৃক্ত না থাকা সত্বেও শুধুমাত্র পতিপক্ষ গ্রুপের হওয়ার অপরাধে আতিয়ার মোল্যা গ্রুপের লোকজন তাকে নির্মমভাবে হাতুড়িপেটা করে ফেলে রেখে যায়।

এ অবস্থায় স্বজন ও আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে, সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উচ্চতর চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে পাঁচদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সন্ধার দিকে তার মৃত্য হয়।

এ দিকে জুয়েলের মৃত্যুর খবরে তাদের পক্ষের বিক্ষুদ্ধ লোকজন প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসময় আতিয়ার শিকদার, উজ্জল শেখ, সুজন সেখ, তরিকুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে টিভি, ফ্রিজ, আলমারি শোকেজসহ বাড়িঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র ভেঙ্গে তছনত করে ফেলা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে হামলাকারিদের প্রতিহত করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে, ৬ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়, এসময় হামলাকারিদের ইটের আঘাতে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়, ঘটনাস্থল থেকে সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।

সরোজমিনে গেলে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগী তরিকুল ইসলামের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন আমার বাড়ি ব্যাপক ভাংচুর করেছে আমার ৩টি গরু মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা ১০ ভরি সোনার ঘহনা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে আমি এর সুষ্টু বিচার চাই।

ভাংচুর ও লুটপাটের বিষয়ে নিহত জুয়েল ভূইয়ার চাচা জামিরুল ভূইয়ার সাথে কথা হলে তিনি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন আমার ভাতিজা জুয়েল হত্যা আড়াল করতে নিজেরা বাড়িঘর ভেঙে এবং মাল জিনিস সরিয়ে নিয়েছে আমাদের কোন লোক ভাংচুর ও লুটপাট করেনি।

এ বিষয়ে নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম কামরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: