প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

শাহীন মাহমুদ রাসেল

কক্সবাজার প্রতিনিধি

খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা

   
প্রকাশিত: ১০:১৫ অপরাহ্ণ, ১৪ আগস্ট ২০২২

কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রধান শিক্ষকের পছন্দের প্রার্থীদের বাছাই করা, নয় ছয় করে তপশীল ঘোষণা, নিজের স্ত্রীকে মহিলা অভিভাবক সদস্য মনোনীত করা, গোপনে দাতা সদস্য সৃজনসহ নানা অনিয়ম করায় স্থানীয় এলাকাবাসী শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা ও অনিয়ম করে একটি প্রভাবশালী মহলকে সাথে নিয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন স্কুলটির বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক। এমন অভিযোগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

এদিকে প্রধান শিক্ষকের ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে মাইম্যান খ্যাত কমিটি গঠনের তৎপরতা দেখে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও অভিভাবকরা তা অবিলম্বে বাতিল করে পূর্ণ তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনিয়ম তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রবিবার (১৪ আগষ্ট) দুপুরে দাতা সদস্য হাফেজা খাতুন এই নিয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করেন, খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে ঘিরে নানা বির্তকিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হকের বিরুদ্ধে নয়-ছয় করে বিদ্যালয়ের দাতা তালিকায় হাফেজা খাতুন, শহিদুল ইসলাম শিমুল এই দুই জনের নাম থাকলেও প্রধান শিক্ষকের ঘনিষ্ট আত্মীয়সহ এখন নির্বাচন কেন্দ্রিক আরো তিন জনের নাম তালিকায় দেখা যাচ্ছে। যার মধ্যে দুই জন, যুবায়ের মুহাম্মদ এহসান ও আব্দুলমান্নান ভুট্টো প্রধান শিক্ষকের অতি নিকটাত্মীয় ও অপরজন রহীমুদ্দিন ছিদ্দিকী, যিনি প্রধান শিক্ষককের উপদেষ্টা বলে জনশ্রুতি আছে।

জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা বিস্তার ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ছিল। তবে প্রধান শিক্ষক জহিরুল হকের কারণে ঐতিহ্যবাহী স্কুলটির সুনাম নষ্ট হতে শুরু করে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষকের একক স্বেচ্ছাচারিতা, অযোগ্যতা এবং ভয়াবহ রকমের দুর্নীতির কারণে বিদ্যালয়টি আজ প্রায় ধ্বংসের মুখে। জহিরুল হকের ব্যাপক দুরভিসন্ধির দুর্নীতিতে শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, তার সঙ্গে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অকারণে চাকরিচ্যুত করার হুমকি, শিক্ষার্থীদের নম্বরপত্র ও সনদ বিতরণে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ, অষ্টম ও নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন বাবদ অতিরিক্ত ফি আদায় এবং এই টাকা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবারই এ ধরনের আজ্ঞাবহ নির্বাচনী দাতাদেরই কৌশলে নিয়মিত কমিটিতে আনেন। তাই এলাকাবাসী এ ধরনের কমিটিকে প্রধান শিক্ষকের পকেট কমিটি বলে থাকেন! স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, অভিভাবক এ ব্যাপারে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন!

অভিভাবকরা বলেন, প্রধান শিক্ষক জহির প্রতিবারই গোপনে এডহক কমিটি করে বসেন। বিভিন্নভাবে চাপে পড়ে নির্বাচন দিলেও নানা বিষয় গোপন রেখে নির্বাচন এবং নির্বাচনের বিধি-বিধান ব্যতিরেকেই কমিটি গঠন করে অভিভাবকদের সঙ্গে এমনকি বিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক ভোটার তালিকা নিয়ে নানা অনিয়ম করারও অভিযোগ তুলেছেন একাধিক অভিভাবক প্রার্থী। তবে প্রধান শিক্ষক তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা একাডেমিট সুপারভাইজারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: