প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

সাকিব হোসেন

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি

গ্রাম থেকে শহরে জ্ঞানের আলো ‘বই বৃক্ষে’!

   
প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, ১৪ আগস্ট ২০২২

আধুনিক সভ্যতার এই যুগে মানুষ যখন অনলাইন গেম, মাদকে ঝুঁকছেন ঠিক তখনই মানুষকে বই পড়ার প্রতি আকৃষ্ট করে তুলেছেন ‘বই বৃক্ষ’। নেই অফিস নেই চেয়ার-টেবিল। বই বৃক্ষের গ্রুপে লিস্ট দেওয়া থাকে কী কী বই তাদের কাছে আছে সেখান থেকে পাঠককে পছন্দের বইটা বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে কমেন্ট করতে হয়। যার যখন বই পড়তে ইচ্ছে হবে জানিয়ে দিবে ফেসবুক গ্রুপে ব্যাস। এক দিনের মধ্যে বই বৃক্ষের সমন্বয়করা বিনামূল্যে পাঠকের বাসায় পৌঁছে দেন বই। আর চমৎকার এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নাম ‘বই বৃক্ষ’। তাদের স্থায়ী সদস্য সংখ্যা তিনশ’রও বেশি। এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে এখন পর্যন্ত বই পড়ছেনে ৫ হাজার ১৬১ জন পাঠক।

ফেসবুক গ্রুপ চালু হওয়ার পর সাপাহার উপজেলার তরুণ-তরুণীদের বই নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। এলাকায় সাড়াও মেলে ব্যাপক। এরপর পাঠক চাহিদার জন্য একে একে আশড়ন্দ, নজিপুর, ধামইরহাট, নওগাঁ জেলা সদর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, চট্রগ্রাম, চাঁদপুর ও সবশেষে দিনাজপুরে তাদের শাখা চালু হয়েছে। এছাড়াও আগামী বছর আরো ২৮ টি শাখা চালু করবে বই বৃক্ষ। প্রতি মাসে পাঠক সংখ্যা ৩৫০ জনেরও বেশি। এখন এই সংগঠনের নিজস্ব বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭৯ টি। শিশুদের জন্য রয়েছে ৭ টি শাখায় শিশু কর্নার। যে শিশুরা বই পড়তে চায় না তাদের জন্য রির্সাস করে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ করাতে চান তারা।

গত শুক্রবারে শহীদ খোকন পার্কে মাঠে একদল তরুণ তরুণীকে একটি ব্যানার ঝুঁলিয়ে বই বৃক্ষের মাসিক আলোচনা করতে দেখা যায়। এলাকায় যারা বই পড়তে চায় না তাদের বই পড়ার প্রতি আহ্বান জানান। সাদিয়া শিলা বলেন, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে অনার্স কমপ্লিট করলাম এ বছর। আমি বইবৃক্ষ বগুড়া শাখা পরিচালার কাজ করি। বগুড়া জেলা উদ্বোধন থেকেই আছি। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সালে আমরা ৯ জন মিলেই শাখাটা খুলে নিয়েছিলাম নিয়ে ছিলাম। এখন পর্যন্ত ১‘শ জনের বেশি মানুষকে বই পড়ার প্রতি আহ্বান করেন ও পাঠকের হাতে বই পৌঁছে দেন তিনি।

আরেক বইপ্রেমী সদস্য সুলতানা নিতু বলেন, আমি বইবৃক্ষ তে এসেছিলাম লেখক সিরাজুল ইসলাম এফ সি এর গ্রুপ বই ভিলেজ থেকে। বই বৃক্ষের আগের গ্রুপ টা প্রাইভেট ছিলো যার কারনে শেয়ার করা যেতো না পরে এই গ্রুপ টা খোলা হয় পাবলিক করে সেটা নিয়েই পোস্ট ছিলো। তখন আমাদের পাবনা তে কোনো শাখা ছিলো না বই বৃক্ষের। পরে বই বৃক্ষ সম্পর্কে জানতে পেরে পাবনা তে শাখা নিতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। বইবৃক্ষের মাধ্যমে আমরা অনেক জনকে পড়াতে পারি এবং আমরা সদস্য রাও বই পড়তে পারি। সব থেকে ভালো লাগে পাঠক দের বই দিতে গিয়ে সবার এতো এতো ভালোবাসা পাই যা কাজ করার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।

বই বৃক্ষের উদ্যোগ নেন রমজান আলী (ইমন), খশরু, মেহেদী হাসান, আব্দুর রাফি, নাসিম রেজা। উদ্যোগটির মূল ভূমিকায় আছেন রমজান আলী। তিনি ঢাকা কলেজের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। বই পড়া ও সংগ্রহ করা ছিল নেশা। ছাত্রাবাসের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ঘোষণা দেন তাঁর কাছে ৩০টি বই আছে। কেউ পড়তে চাইলে তিনি দিতে চান তবে ফেরত দিতে হবে। শুরু হলো বই নিয়ে আলোচনা। বন্ধুরা উপহার দিল ৫০টি বই। এভাবেই বই বৃক্ষ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে।

বই বৃক্ষের উদ্যোক্তা রমজান আলী জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বইপড়ার আন্দোলন এক শহর থেকে আরেক শহরে ছড়িয়ে গেছে। ওয়েবসাইট চালু করার ইচ্ছে তাঁদের। সাইটে সব শাখা আলাদা থাকবে যে শাখায় যে বই থাকবে সব বইয়ের তালিকা দেখা যাবে। বই বৃক্ষে যোগ করা হবে দেশের বাইরে ২টি শাখা চায়না ও অষ্ট্রেলিয়া। এভাবেই ডালপালা মেলতে থাকবে বইপ্রেমীদের এই সংগঠন।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: