প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

পরশুরামে হোটেলে চুরি, অভিযুক্ত ৩ নৈশপ্রহরী আটক

   
প্রকাশিত: ১:৪৭ অপরাহ্ণ, ১৭ আগস্ট ২০২২

কামরুল হাসান নিরব, ফেনী থেকে: পরশুরামে রক্ষক নৈশপ্রহরীরা ভক্ষকের ভূমিকায় উর্ত্তীর্ন হ’য়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার শাহজালাল হোটেলে তারা দোকানের টাকা ও মালামাল চুরি করে। বুধবার(১৭ আগষ্ট) সকালে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে হোটেলের মালিক মো. আজিম উদ্দিন ভূঞা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পৌর এলাকার বাউরখুমা গ্রামের জলিল মিয়ার ছেলে মো. কামাল উদ্দিন (৩২), উত্তর কাউতলী গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. আবদুল জব্বার (৫০) ও পৌর এলাকার খন্দকিয়া গ্রামের মুখলেসুর রহমানের ছেলে মো. মনির হোসেন (৫০)।

ব্যবসায়ী নেতারা, হোটেল মালিক এবং ফুলগাজি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট রাতে উপজেলা পরিষদ সড়কে অবস্থিত শাহজালাল হোটেলের সরজার শাটার কেটে ভেতরে ঢুকে নগদ টাকাসহ প্রায় ৩০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিনজনকে শনাক্ত করেন। তাঁরা তিনজনই বাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরি করেন। ব্যবসায়ী নেতারা তাঁদের শনাক্ত করে বাজার বণিক সমিতির অফিসে ডেকে পাঠান। পরে আসামিদের আটক করে পরশুরাম থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরশুরাম থানার পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে হোটেলে চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যমতে, হোটেল থেকে চুরি হওয়া বেশ কিছু মালামাল পুলিশ উদ্ধার করেছে।

পরশুরাম বাজার বণিক সমিতির সভাপতি লোকমান উজ জামান আল আজাদ বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করে পরশুরাম থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে বাজারের নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।’ পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদ সড়কে অবস্থিত শাহজালাল হোটেলে চুরির ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা তিনজনই পরশুরাম বাজার বণিক সমিতির অধীনে নৈশপ্রহরী।

তবে নৈশপ্রহরীদের দাবি’ পেটের দায়ে চুরি করেছে তারা।তাদের বেতন মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার। অথচ তারা উপজেলার সবচেয়ে বড় বাজারের পাহারা দিয়ে থাকে। দীর্ঘদিন তারা বেতন বৃদ্ধির জন্য বলে আসছিল। বাজারে নিত্যপন্যের দাম বাড়লে ও বাড়েনি তাদের জীবনযাত্রার মান। বাড়েনি তাদের বোনাস, সম্মান বা কদর। অথচ যেখানে একটি ধনী পরিবারের ২ দিনের বাজারই হয় তাদের বেতন। কিন্তু তারা এত বড় বড় মার্কেটের লক্ষ টাকার পাহারাদার হলেও তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয় না।তাদের বেতন দিতেও গড়িমসি হয়। এজন্যই তারা এমন পথ বেঁচে নিয়েছেন বলে দাবি করেন।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: