প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তার বেহাল দশা, রেলগেইট রোগীদের ভোগান্তির কারণ

   
প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, ১৮ আগস্ট ২০২২

মোহাম্মদ আবির, আখাউড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র রাস্তার বেহাল দশা পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র রাস্তায় রেলগেইট থাকায় হাসপাতালে আসা মুমূর্ষ রোগীসহ এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের, দুর্ঘটনায় কবলিত রুগী জরুরি ভিত্তিতে আনানেয়া খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপরেও যখন কোন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তার স্বজনরা উপলব্ধি করতে পারে রেলগেইটে দাঁড়িয়ে থাকা সময়টা যে কত লম্বা হয়।

বুধবার ১৭ আগস্ট দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আখাউড়া সড়ক বাজারস্থ ঢাকা হোটেল সংলগ্ন ব্রিজ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত রাস্তাটি খানা খন্দের কারনে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। পাকা সড়কটির মাঝে মাঝে কার্পেন্টিং উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং সম্পূর্ণ রাস্তার ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ও রাস্তার দুপাশের দোকানপাট থাকায় পানি সড়কে আটকে থাকে।দীর্ঘদিন রাস্তাটি সংস্কার না করায় দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

স্থানীয়রা ও হাসপাতালে আগত রোগীদের স্বজনরা বলেন এই রাস্তাটি সংস্কার করা না হলে রাস্তাটি চলাচলের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়বে কিছুদিনের মাঝেই। রাস্তা এমন হওয়ার পিছনে কারণ সম্পর্কে তারা জানান দীর্ঘদিন রাস্তাটি সংস্কার হচ্ছে না, পাশাপাশি রেলওয়ের কাজ চলমান রয়েছে, নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা।

রাস্তাটি বেহাল দশায় পরিণত হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার করার কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে প্রতিনিয়তই অসংখ্য রুগী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ গ্রামের কয়েক হাজার লোক এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পৌর শহরে যাতায়াত করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মূমুর্ষূ রোগীদের আনা-নেয়া করতে চরম ভোগান্তিতে পরছেন রোগীর স্বজনরা। এমনিতেই দুর্ভোগের শেষ নেই তার ওপর চলাচলের একমাত্র রাস্তায় রেল গেইট থাকার কারণে মুমূর্ষ রোগীদের বেশিরভাগ সময় হাসপাতালে যেতে রেলগেইটে অপেক্ষা করতে হয়।

এই ভোগান্তির বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন এটা পৌরসভা থেকে টেন্ডার করা হয়েছে। উনারা ভালো বলতে পারবে কবে শুরু করবে কাজটা।

আখাউড়া পৌরসভার সহকারি নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ ভোগান্তির কথা স্বীকার করে রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে বলেন টেন্ডার হয়েছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মো:হিমেল খান বলেন আমাদের হাসপাতালে সব ধরনের সেবা চলতেছে বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের সেবা,শিশুদের সেবা,চক্ষু সেবা বহির্বিভাগ ও জরুরী বিভাগে প্রতিদিন তিন থেকে চার শতাধিক মানুষ সেবা নিচ্ছেন এবং ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে।আখাউড়া উপজেলার এক লক্ষ ৭৩ হাজার মানুষকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু হাসপাতালের রাস্তার বেহাল দশার কারণে দূর দূরান্ত থেকে রোগী এসে খুবই হয়রানির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে যারা অর্থপেডিক্স এর রোগী হাত-পা ভাঙ্গা রোগী ঝাঁকুনির জন্য কষ্ট হয়।

তাছাড়া গর্ভবতী রোগীদের ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে আসতে তাদের জন্য রিস্ক,যে কোন সময় বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া মুমূর্ষু রোগী ও হার্টের রোগীর রেল গেইট এর কারনে ১৫ থেকে ২০ মিনিট আটকে থাকতে হয়। ওই রোগীদের জন্য সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এ সকল রোগীর চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছে রাস্তায়। আমরা যদি কোন রোগীকে রেফার করি এ্যাম্বুলেন্স রেলগেইটে আটকে থাকে দীর্ঘ সময়।এই রাস্তায় দুইটা গাড়ি একসাথে ক্রসিং করতে পারে না। রাস্তাটা যদি একটু প্রশস্ত করে মেরামত করা হয় আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য আখাউড়া বাসীর জন্য খুবই উপকার হবে।

রোগীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে পৌর মেয়র ও আখাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজল বলেন রেল গেইটের নিচে যদি আন্ডার পাস হতো তাহলে ভালো হতো‌। অনেক সমস্যায় জর্জরিত রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন দশ দিন পূর্বে রাস্তার টেন্ডার হয়েছে।

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট কামরুল হাসান তালুকদার বলেন আপ সাইডে প্রতিদিন মেইল ইন্টারসিটি সহ ২২ টি ট্রেনে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট করে সময় নেয়।আর ২২ টি ট্রেন ঢাউনে স্টেশন থেকে ছাড়লে সর্বোচ্চ দুই মিনিট সময় নেয়।

সব মিলিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ ঘন্টা মতো সময় গেইট বন্ধ থাকে।তিনি আরোও বলেন আমাদের রেল গেট স্থানান্তর করা হবে। স্থানান্তর করলে একটা সিস্টেম এমন হবে ট্রেন ধারে কাছে আসলে ওয়ার্নিং বোর্ড বাজবে।তার পর গেট টা দিবে। এরপর গেট টা চলে যাবে আরো সামনে বর্তমানে বড়বাজার আছে এটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে ঘুরে এদিকে আসবে।

তুহিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: