প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

আব্দুল ওয়াদুদ

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় সিন্ডিকেটের কব্জায় ইউরিয়া সার, বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে

   
প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, ২০ আগস্ট ২০২২

ছবি - প্রতিনিধি

বগুড়ার শেরপুরে আমনের ভরা মৌসুমে সিন্ডিকেটের কব্জায় চলে গেছে ইউরিয়া সার। তাই পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকার পরও কৃষকরা সার পাচ্ছেন না। এমনকি সার সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ডিলার-ব্যবসায়ী ও কৃষি অফিসে গিয়ে বারবার ধরনা দিচ্ছেন কৃষক। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। ফলে সময়মত জমিতে সার দিতে না পারায় গাঁড়ো সবুজ বর্ণ ধান গাছ আবার লালচে হয়ে যাচ্ছে।

এমন অবস্থায় কৃষক দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। তবে কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি মূল্যের ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে। তাই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিলেই মিলছে সার। প্রতি বস্তা সারে ৩০০-৪০০ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। ডিলার-ব্যবসায়ী সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ওই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়া কৃষকদের পকেট কেটে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অথচ সেদিকে নজর নেই স্থানীয় কৃষি বিভাগের। কালোবাজারি রোধে তাদের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, নানা অজুহাতে হঠাৎ করেই খোলা বাজারে সার বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন ডিলাররা। সেইসঙ্গে তাদের নিয়োগ করা সাব-ডিলার ও ব্যবসায়ীরাও সার না পাওয়ার কথা বলে বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। ফলে এই উপজেলার কৃষকদের মধ্যে সারের জন্য হাহাকার তৈরী হয়েছে। সার পেতে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাঁরা। ডিলারের দোকানে সাত-আট ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাচ্ছেন না। কিন্তু বেশি দাম দিলে ঠিকই মিলছে সার। কারণ লাইনে দাঁড়ানো সিংহভাগ লোকই ওই সিন্ডিকেটের। আর তারাই পাচ্ছেন ইউরিয়া সার। যা পরবর্তীতে বাড়তি দামে কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এই উপজেলায় বিসিআইসি অনুমোদিত সারের ডিলার রয়েছেন ১২জন। আর বিআরডিসির ডিলার রয়েছেন ২১জন। এছাড়া শতাধিক খুচরা সার ব্যবসায়ী রয়েছেন। কৃষিনির্ভর এই উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ২১হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেই লক্ষ্যমাত্রা পুরণও হয়েছে। এসব জমিতে ইউরিয়া সার দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। তাই চলতি আগস্ট মাসে ৯০৭ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী ডিলাররা সার উত্তোলন করে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পুর্ণ উল্টো। কৃত্রিম সারের সংকট তৈরী করে বাড়তি দামে সার বিক্রি কা হচ্ছে।

উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের সাধুবাড়ী গ্রামের কৃষক মাহবুবার রহমান বলেন, এবার দশবিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। চারা লাগানোর পর বিশদিন পার হতে চলেছে। এখন সার দেওয়ার উপযুক্ত সময়। কিন্তু সার পাচ্ছি না। ডিলার ও কৃষি অফিসের স্থানীয় উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তার কাছে ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। সার নাই বলে তাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে আসলে পাবেন বলে জানান তাঁরা।

রমজান আলী নামের আরেক কৃষক জানান, সারের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছি। ডিলারের দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষার পর মাত্র এক বস্তা সার পেয়েছি। যা দিয়ে আমার কোনো কাজই হবে না। কারণ আমার প্রয়োজন সাত বস্তা। তাই বাড়তি দাম দিয়ে সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা সার ১১০০টাকার স্থলে ১৪০০টাকা দিয়ে কিনেছি।

উচরং গ্রামের কৃষক শাফি উদ্দিন বলেন, ডিলার-ব্যবসায়ীদের কাছে সার কিনতে গেলে পাচ্ছি না। আবার সরকার নির্ধারিত দামেও বিক্রি করা হচ্ছে না। আবার বেশি টাকা দিলেই সার পাওয়া যাচ্ছে। এক কথায় আমরা সার সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে গেছি। তাই আমনের ভরা মৌসুমে বেশি দামে ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে। তিনিও বাড়তি দাম দিয়ে প্রতিবস্তা ইউরিয়া সার ১৩০০টাকায় কিনেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার এ প্রসঙ্গে বলেন, সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ডিলাররা সেই সার উত্তোলন করে বিক্রি করলেও সেটি আমার দপ্তর থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। এরপরও সার পেতে কোথাও কোনো সমস্যা হলে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেন।

এছাড়া কালোবাজারে সার বিক্রির বিষয়টি তাঁর জানা নেই দাবি করে-এই কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত টাকায় সার বিক্রির সুযোগ নেই। যদি কোনো ডিলার-ব্যবসায়ী বেশি দাম নিয়ে থাকেন, তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশরাফুল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: