প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত পরিবেশ, অতিষ্ঠ এলাকাবাসীর মানববন্ধন

   
প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

মাজহারুল ইসলাম, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে ঘনবসতিপূর্ণ কোবাগা এলাকায় একটি শিল্পকারখানার বিষক্ত বর্জ্য ও ক্যামিকেলের গন্ধে ঐ এলাকার কয়েকশত মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলাবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এলাকার কয়েকশত নারী- পুরুষ একত্রিত হয়ে শিল্প কারখানাটি অন্যত্র স্থানান্তর করার জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কারখানাটি অন্যত্র স্থানান্তর করা না হলে বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাদী ঘোষনা দেন৷

কোবাগা এলাকার বাসিন্দা রাখাল দাস জানান, ওই এলাকায় সিগমা অয়েল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের আশপাশ এলাকায় কয়েকশত পরিবার বসবাস করে আসছে। শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও ক্যামিকেলের গন্ধে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। কারখানার ব্যবস্থাপক সঞ্জিৎ মন্ডল ও তার সহযোগীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কারখানা পরিচালনা করছেন। আমরা প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা ও হামলাসহ আমাদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভিতি দেখানো হচ্ছে। তাই কারখানাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

রাখাল দাস বলেন, শিল্প কারখানা নির্মাণ করতে হলে যে ধরনের নীতিমালা মালিক পক্ষকে মানতে হয় তার কোনটাই মানছেন না সিগমা ওয়েল মিলের মালিক। তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই আমাদেরকে জিম্মি করে জোরপূর্বক কারখানাটি পরিচালনা করছেন। আমরা তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে মুখ খুলতে সাহজ পাচ্ছি না।

সোনারগা আইডিয়াল স্কুলের ২য় বর্ষের ছাত্রী জয়ন্তিরানি দাস জানান, তাদের কারখানার জেনারেটরের প্রচণ্ড শব্দে আমাদের লেখাপড়ার খুব সমস্যা হয়। তাই কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবলীগ নেতা জানান, আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছে। আমি তাদের কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা ষড়যন্ত্র করছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে সিগমা ওয়েল মিলের ব্যবস্থাপক রঞ্জিৎ মন্ডলকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটিকে কোনোভাবেই লাইসেন্স নবায়ন করতে দেওয়া হবে না। এলাকাবাসী বসবাসের সমস্যা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ এলাহী জানান, একটি আবাসিক এলাকায় কিভাবে মবিল কারখানা গড়ে উঠে এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে মালিক পক্ষ সঠিক কাগজপত্র দেখাতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: