প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে খবর, পত্রিকা বন্ধ করে দিল আমিরাত

   
প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

আমিরাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রতিবেদন লেখায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেখানকার প্রভাবশালী দৈনিক পত্রিকা আল রোয়েয়া। সেই সঙ্গে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে অধিকাংশ সংবাদকর্মীকে। চলতি বছরের ২১ জুন চুড়ান্তভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পত্রিকাটি। সেই সঙ্গে চাকিরচ্যুত করা হয়েছে প্রায় ৫০ জন সংবাদকর্মীকে, তাদের মধ্যে একদিনেই ছাঁটাই নোটিশ পেয়েছেন অন্তত ৩৫ জন সংবাদকর্মী। পত্রিকাটির মালিকপক্ষ চাকরিচ্যুত সংবাদকর্মীদের এ ব্যাপারে মুখ না খুলতে কঠোরভাবে নিষেধ করে দিয়েছিল। এ কারণে এতদিন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেনি এ ঘটনা।

তবে বিষয়টি অবশেষে সামনে এসেছে। সম্প্রতি আল রোয়েয়ার কয়েকজন চাকরিচ্যুত কর্মী মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা ফ্রিডম হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখনই ব্যাপারটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আল রোয়েয়ার আট জন চাকরিচ্যুত কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এপি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে মার্কিন এই সংবাদ সংস্থা। সরকার প্রতিশোধমূলক নীতি নিতে পারে— এই ভয়ে তথ্য প্রদানকারী সব কর্মীই তাদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন এপিকে।

এর আগে দুই বছরের দীর্ঘ করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে চলতি বছরের শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে বাড়ছিল জ্বালানি তেলের দাম। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ বিভিন্ন দেশ জ্বালানি তেলে ভর্তুকির হার বাড়ালেও আন্তর্জাতিক বাজারে অধিক মুনাফার আশায় আমিরাত তেলের ওপর ভর্তুকি প্রত্যাহার করে নেয়।ফলে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের চেয়ে আমিরাতে তেলের মূল্য ছিল বেশি। এই দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় চলতি বছর গ্রীষ্মে, মে-জুন মাসের দিকে। তেলের অতিরিক্ত মূল্যের কারণে আমিরাতের সাধারণ জনগণ ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়েন।এমন এক পরিস্থিতে গত ০২ জুন একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে আল রোয়েয়া। তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমিরাতের জনভোগান্তিই ছিল সেই নিবন্ধের মূল বিষয়বস্তু। স্বাভাবিকভাবেই ভোগান্তির শিকার বহু মানুষের বক্তব্য-মন্তব্য সংযুক্ত করা হয়েছিল নিবন্ধটিতে।

এমন ঘটনা ঘটে এবার ই প্রথম। আল রোয়েয়ার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকার দেওয়া এসব লোকজনের মধ্যে কয়েকজন ট্যাক্সিচালকও ছিলেন। তারা আল রোয়েয়াকে জানিয়েছিলেন, দেশে দাম চড়া থাকায় তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ওমানে গিয়ে পেট্রোল কেনেন। আমিরাতের তুলনায় ওমানে পেট্রোলের দাম অর্ধেক। নিবন্ধটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি আল রোয়েয়ার ওয়েবাসাইট থেকে মুছে ফেলা এবং সেটি যেন কোনোভাবেই প্রিন্টেড কপি আকারে না আসে, সে ব্যবস্থা নিতে আল রোয়েয়া সম্পকাদককে নির্দেশ দেয় আইএমআই কর্তৃপক্ষ।মালিক প্রতিষ্ঠানের এই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন আল রোয়েয়ার সংবাদকর্মীরা। চাকরিচ্যুত এক জেষ্ঠ্য সংবাদকর্মী এপিকে বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে গণমাধ্যম আইন কঠোর; কিন্তু আমরা ভেবেছিলাম, যেহেতু আল রোয়েয়ার মালিক প্রেসিডেন্টের আপন ছোটো ভাই, এই নিবন্ধটি প্রকাশ করলে সমস্যা হবে না। আমাদের ধারণা ভুল ছিল।’

রেজানুল/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: