রবিন খান

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

সিংড়ায় পকেট নেবুলাইজার তৈরি করে আলোচনায় দশম শ্রেণীর রাকেশ

   
প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

নাটোরের সিংড়ায় তরুণ উদ্ভাবক রাকেশ পকেট লেবুলাইজার তৈরিতে সফলতা পেয়েছে রাকেশ সাহা সে সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুলের দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের একজন ছাত্র। বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এ বছর ৪৩ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল থেকে অংশগ্রহণ করে সিংড়া উপজেলা থেকে প্রথম স্থান, নাটোর জেলা থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন সহ বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে অংশগ্রহণ করে সিংড়া উপজেলা থেকে “সেরা মেধাবী” শিক্ষার্থীর স্থান অর্জন করেছে এই স্কুল পড়ুয়া ছাত্র রাকেশ সাহা।

রাকেশ সাহা সে এই কাজের জন্য আরডুইনো ও ব্যবহার করছে, প্রোগ্রামিং করে বিভিন্ন রকম প্রজেক্ট তৈরি করা যায়। কিন্তু প্রোগ্রামিং করার জন্য তার নিজস্ব একটি ল্যাপটপের অত্যন্ত প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

রাকেশ সাহা বিডি২৪লাইভ’কে জানান, কিছুদিন হল কোন প্রতিযোগিতা না থাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু প্রজেক্ট তৈরীর চিন্তা ভাবনা করলাম। এরপর আমার মাথায় এলো নেবুলাইজার মেশিন এর কথা। করোনার সময় থেকে দেখা যাচ্ছে অনেক মানুষ শ্বাসকষ্টে মারা যাচ্ছে। হাসপাতালে নেওয়ার মতো সময় ও তাদের হচ্ছে না। ফলে শ্বাসকষ্টের রোগীরা ব্যক্তিগতভাবে নেবুলাইজার মেশিন কিনতে চাচ্ছেন এবং অনেকে কিনছেনও। তবে জেনেবুলাইজার মেশিনগুলো আমাদের দেশে ব্যবহার হয় সেগুলো আমাদের দেশে তৈরি নয়। বরং এসব নেবুলাইজার মেশিন চায়না থেকে আমাদের দেশে আমদানি করতে হয়।

তাই এইসব নেবুলাইজার মেশিন এর দাম প্রত্যেকটি ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা। যা অনেক ব্যয়বহুল। তাই সবার সামর্থ্যও হয় না একটা নেবুলাইজার মেশিন ব্যক্তিগত ভাবে কেনার। তাই আমি এই বিষয়টি নিয়ে দুইদিন যাবত রিসার্চ করলাম। গুগল ইউটিউব সব জায়গায় আমি এসব তথ্য খুঁজতে লাগলাম। কেউ কি সব থেকে ছোট নেবুলাইজার মেশিন বানিয়েছে? কেউ কি কম খরচে নেবুলাইজার মেশিন বানিয়েছে? Google, youtube উইকিপিডিয়া এসব জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর যেসব তথ্য পেলাম তা দেখে আমি সত্যিই অনেক আনন্দিত হলাম।

দেখলাম গত চার পাঁচ বছরে এমন কোন যন্ত্র কেউ আবিষ্কার করেনি। আর যেসব যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে তা খুব একটা সাশ্রয়ী নয় এবং খুব একটা ছোটও নয়। অন্তত আমাদের বাংলায় তো এমন কোন যন্ত্র আবিষ্কার হয়নি। যা হয়েছে তা আমাদের বাংলার বাইরের বিভিন্ন দেশে। তাই আমি সেদিনই সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমিই তৈরি করব পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট, পকেটে বহনযোগ্য এবং সাশ্রয়ী নেবুলাইজার মেশিন।

আমি সঙ্গে সঙ্গে তরুণ উদ্ভাবক জয় বড়ুয়া লাভলু দাদাকে বিষয়টা জানালাম। দাদা আমাকে অনুপ্রেরণা এবং সাহস দিলেন। আমি কাজ শুরু করে দিলাম। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবস্থা করলাম। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুলো সাত দিনের মধ্যে পেয়ে গেলাম। কাজ শুরু করলাম একটা নেবুলাইজার মেশিন তৈরির। মাত্র তিনদিনের ভেতর আমার কাঙ্খিত যন্ত্রটি আবিষ্কার এ আমি সক্ষম হলাম।

তিনি প্রতিবেদক কে আরো বলেন, আমার স্কুলের ফেরদৌস স্যারের সহযোগিতায় নেবুলাইজার মেশিনে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র সংগ্রহ করলাম। স্যার আমাকে দুইটা ঔষধের নাম লিখে দিলেন। আমি ঔষধ গুলো নিকটস্থ ফার্মেসী থেকে কিনে আনলাম। ঔষধ গুলো আমার তৈরি পকেট নেবুলাইজার মেশিনে দিলাম। এরপর আমি এটি নিজেই ব্যবহার করে দেখলাম। আমি নিজেই একজন শ্বাসকষ্টের রোগী। গত কয়েক বছর যাবত এটার জন্য আমি কলকাতায় চিকিৎসা করছি। আমাকে ইনহেলার ব্যবহার করতে হয়। আমার ইনহেলার টা শেষ হয়ে যাওয়ায় একটি ব্যবহার করে আমি খুব ভালো ফল পাচ্ছি।

রাকেশ বলেন, আমার তৈরি এই ছোট মিনি পকেট নেবুলাইজারটি বেশ কাজে দিচ্ছে। বড় বড় নেবুলাইজার মেশিনগুলো ব্যবহার করার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের প্রয়োজন হয়। এবং এসব মেশিন থেকে অনেক শব্দ সৃষ্টি হয়। আমার তৈরি এই পকেট নেবুলাইজার মেশিনটি ছোট, দেখতে সুন্দর এবং পকেটে বহনযোগ্য। এমনকি এটি রিচার্জেবল হওয়ায় এটি ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের কোন প্রয়োজন নেই। আমার তৈরি এই পকেট নেবুলাইজার মেশিনটি বড় মেশিনের মত শব্দ সৃষ্টি হয় না। এই পকেট নেবুলাইজার মেশিনটি তৈরি করতে আমার প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। ফলে এটি আমি অনেক কম খরচেই তৈরি করে সাধারণ মানুষের হাতে আমি পৌঁছে দিতে সক্ষম হব।

তিনি বলেন, যেহেতু একটি পকেট নেবুলাইজার মেশিন কিনতে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার লাগছে। সেহুতু এটি অনেক স্বাস্থ্যই হয় দেশের সাধারণ জনগণ এটি কিনতে পারবে বলে আমি আশা করছি। এতে করে বাহিরের দেশ থেকে বড় বড় নেবুলাইজার মেশিনের আমদানি কমিয়ে আমাদের দেশীয় পণ্য তথা আমার এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পকেট নেবুলাইজার মেশিন উৎপাদন করে এবং সাধারণ জনগণের হাতে পৌঁছে দিতে পারলে আমাদের সাধারণ মানুষ গুলো অনেক উপকৃত হবে।

এমনকি আমরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পকেট নেবুলাইজার মেশিনগুলো আমাদের দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের আমদানি করে আমাদের দেশ অনেক বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করতে পারবে বলে আমি আশা করছি, তিনি এবিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি’র সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: