প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

রফিকুল ইসলাম

বান্দরবন প্রতিনিধি

লামায় বাঁশ ব্যবসায়ীকে খুন, আটক ২

   
প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম নাইক্ষ্যংমুখ এলাকায় এক বাঁশ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে লামা থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় লাশটি দেখতে স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের খবর দেয়। উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নাইক্ষ্যংমুখ এলাকার রেঅং পাড়া সংলগ্ন এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

নিহত বাঁশ ব্যবসায়ী সরোয়ার আলম (৫৫) লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের অংহ্লা পাড়া এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ রূপসীপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম ওই এলাকায় বাঁশ সহ গাছ, কলা, সবজির ব্যবসা করতেন।

বাঁশ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পুলিশের ২টি টিম ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাইমূল হক এর নেতৃত্বে প্রথম টিম সকাল সাড়ে ৮টায় এবং আমার নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শিবেন বিশ্বাস সহ আরেকটি পুলিশের টিম সকাল ৯টায় রওনা দিয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি বিকেলে বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে। আটক এছো ত্রিপুরা (১৯) রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আলিয়াং বাবু পাড়ার কারবারী আর্গা ত্রিপুরার ছেলে এবং গণেশ ত্রিপুরা (২৩) সরই ৬নং ওয়ার্ডের টংগঝিরি এলাকার হাছমনী ত্রিপুরার ছেলে। গণেশ ত্রিপুরা নাইক্ষ্যংমুখ বাজারে একটি মুদি ও চা দোকান করত।

লাশের সুরতহাল করেন লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাইমূল হক। তিনি বলেন, লাশের দুই পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। ক্ষত স্থান থেকে রক্ত ঝরছিল। লাশের কিছু দূরে জুতা ও ছাতা পাওয়া গেছে। ধারনা করা হচ্ছে বুধবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কেন বা কি কারণে খুন হয়েছে তা জানা যায়নি। ময়নাতদন্তে মূল কারণ বেরিয়ে আসবে।

রূপসীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা বলেন, ঘটনাস্থল খুবই দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ। লামা থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়।

রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার কাইওয়ে ম্রো ও নাইক্ষ্যংমুখ বাজারের সভাপতি কাইমপা ম্রো বলেন, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সরোয়ার আলম, আটক দুইজন এছো ত্রিপুরা ও গণেশ ত্রিপুরাকে সাথে নিয়ে আলিয়াং পাড়ায় যাওয়ার জন্য নাইক্ষ্যংমুখ বাজার থেকে রওনা দেয়। নাইক্ষ্যংমুখ বাজারের ব্যবসায়ী রূপা প্রভা বড়ুয়া বলেন, বুধবার বিকেলে সরোয়ার আলম আমার দোকানে বসে এছো ত্রিপুরাকে গাছের বিক্রির টাকা দেয়। রেঅং পাড়ার কারবারী মাংক্রাত বলেন, বুধবার আমি কাজে পাড়া থেকে নাইক্ষ্যংমুখ বাজারে আসছিলাম। এসময় দেখি সরোয়ার আলম, এছো ও গণেশ গল্প করে আলিয়াং পাড়ার দিকে যাচ্ছিল।

নিহত সরোয়ার আলমের শ্যালক মোঃ শাহ আলম বলেন, আলিয়াং পাড়ার লোকজনের কাছে আমার বোন জামাই কমপক্ষে ১০ লক্ষ টাকা পাবে। খুনের সময় ঊনার কাছে টাকা ছিল। বাঁশের টাকা দিতে তিনি এসেছিল। ওই এলাকায় তিনি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করে।

উল্লেখ্য, গত তিন বছরে রূপসীপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম নাইক্ষ্যংমুখ ও আলিয়াং পাড়ায় আলোচিত বসন্ত বড়ুয়া, বিদ্যামনী ত্রিপুরা খুন সহ অসংখ্যবার সেনাবাহিনীর সাথে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উক্ত এলাকাটি পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের আতুড়ঘর হিসাবে পরিচিত৷

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: