প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মোঃ শাকিল শেখ

সাভার করেসপন্ডেন্ট

আশুলিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলা চালিয়ে খাবার হোটেলসহ ডেন্টাল ক্লিনিক ভাংচুর, আহত ৫

   
প্রকাশিত: ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ, ২ অক্টোবর ২০২২

সাভারের আশুলিয়ায় মার্কেট মালিকের সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হামলা-ভাংচুর করেছে প্রতিপক্ষ। এসময় জাহান ডেন্টাল কেয়ার ও আল্লাহর দান হোটেল নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর করা হয়। এতে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হন। এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় পাল্টা-পাল্টি দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১ অক্টোবর) রাতে অভিযোগ দুটির বিষয়টি বিডি২৪লাইভ এর প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ আল মামুন। এর শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার আদর্শ সুপার মার্কেটে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ জানায়, আমাদের ডিউটি টাইম শুরু হলে থানা থেকে বের হয়ে জামগড়া চৌরাস্তা পৌছালে কয়েক জন পোলাপান লাঠিসোঁটা নিয়ে গাড়ী ভাংচুর করতে ছিলো। পরে সাথে থাকা সঙ্গীও ফোর্স নিয়ে তাদের ধাওয়া দিলে সাথে সাথেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ভাংচুরকারীরা। আশেপাশে দোকানদারদের কাছে জানতে পারি জামগড়াস্থ রনি ভূইয়া ও সুমন মীরদের দু’পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আদর্শ সুপার মার্কেটের দোকান পাটসহ হোটেল, ডেন্টাল এবং অপরদিকে তমিজ উদ্দিন মার্কেটের ঔষধদের দোকান ভাংচুর করা হলে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। উভয়ই পক্ষের বেশ কয়েক জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা তাদের কে উদ্ধার করে স্থানীয় ভর্তি করান। দু’পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

আদর্শ সুপার মার্কেটের মালিক বকুল ভুইয়া জানান, জামগড়া এলাকার তমিজ উদ্দিন মীরের ছেলে সুমন মীরের সাথে তাদের পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে শুক্রবার রাতে সুমন মীরের সহযোগী শাহীন, ইমরান, আইয়ুব, রশিদ এবং সোহান সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫জন তার জামগড়াস্থ আদর্শ সুপার মার্কেটে হামলা চালায়।

এসময় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের এলোপাথারি মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় থাকা জাহান ডেন্টাল কেয়ারের ডেন্টাল চেয়ার, থাই গ্লাস, এসি ও সাইনবোর্ড ভাংচুর করে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। পরে তারা একই তলায় থাকা আল্লাহর দান হোটেলে ভাংচুর চালায় এবং ক্যাশে থাকা ৩৫ হাজার টাকা লুট করে। এরপর নীচে গিয়ে একটি সুতার দোকানের সাটারে রাম দাঁ দিয়ে কুপিয়ে এবং ভেতরে ঢুকে সুকেচ ভাংচুর করে। বাঁধা দিতে গেলে মারুফ নামের তার চাচাতো ভাইকে এলোপাথারি মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে তার বাম হাতে চাকু দিয়ে কুপ দেয়। এছাড়া ডেন্টাল কেয়ারে চিকিৎসা নিতে আসা একজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসতে থাকলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি রাতেই আশুলিয়া থানায় সুমন মীরকে প্রধান এবং আরো ৫জনকে আসামী করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে, অভিযুক্ত সুমন মীর জানান, বকুল ভুইয়ার ছেলে রনি ও তার লোকজন তার মালিকানাধীন ইন্টারনেটের লাইন বিভিন্ন সময়ে কেটে ফেলে। এর প্রতিবাদ করলে রনি ও তার লোকজন মিলে আমার কর্মচারীদের উপর হামলা করে কুপিয়ে আহত করে। আহতদের মধ্যে রাব্বি, মোছা ও ছানীকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া তাদের মার্কেটে একটি ফার্মেসীসহ চারটি দোকান ভাংচুর করেছে রনি গংরা। এ ঘটনায় রাতেই তার ম্যানেজার শাহীন ১৫জনকে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এবিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি (অপারেশন) আব্দুর রাশিদ বলেন, ভাংচুরের ঘটনায় দু’পক্ষের অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: