প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

এম. সুরুজ্জামান

শেরপুর প্রতিনিধি

গারো পাহাড়ে এবার বাঘ আতঙ্ক

   
প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, ৫ অক্টোবর ২০২২

শেরপুর সীমান্তের গারো পাহাড়ে বন্যহাতির তান্ডবের সাথে এবার নতুন করে বাঘ আতঙ্ক শুরু হয়েছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। ইতোমধ্যে বাঘে এক শিশুকে আহত করা সহ কৃষকের ১৮টি ছাগল খেয়ে ফেলেছে, এমনটা দাবি করেছেন তারা। এলাকাবাসীদের সচেতন করার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিটের বাকাকুড়া নয়াপাড়া, উত্তর গান্ধিগাঁও, হালচাটি ও ছোট গজনী এলাকায় প্রায় সময় বন্যহাতির বিচরণ থাকলেও গত এক সপ্তাহের মধ্যে এক শিশুকে আহত করাসহ কৃষকের ১৮টি ছাগল খেয়ে ফেলেছে। আহত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে একটি ছাগল, একটি ভেড়া ও একটি গরু।

স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাছ আলী বলেন, বাঘ ছাড়া এভাবে ছাগল খোয়া যায় না। গত কয়েকদিন ধরে ছাগল খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমিনুল ইসলাম ও আবু তালেব জানান, যখন ছাগল ও ভেড়া হারানো শুরু হয়েছে তখন থেকেই আমরা পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজা শুরু করি। পরে পাহাড়ের এক টিলায় ছাগলের নাড়ি-ভূঁড়ি পড়ে থাকতে দেখি। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে বাঘ ওই ছাগলগুলোকে খেয়েছে। এজন্য আমরা আতঙ্কে আছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী গ্রামের কৃষকরা তাদের পালিত গরু ছাগল সকালে পাহাড়ে ছেড়ে দেয় ঘাস খাওয়ার জন্য। সারাদিন ঘাস খেয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ছাগল আর বাড়ি ফিরে না। পরে কয়েকজন কৃষক পাহাড়ের এক টিলায় ছাগলের কয়েকটি নাড়িভূঁড়ি পড়ে থাকতে দেখেছেন।

স্থানীয়রা আরো জানান, বাকাকুড়া গ্রামের সাগরের দুটি ছাগল, আমিনুলের একটি ছাগল, গান্ধিগাঁও গ্রামের আলমের একটি ছাগল, ঠান্ডু পাগলার একটি ছাগল, আক্তারের একটি ছাগলসহ ১৮ জন কৃষকের ১৮টি ছাগল খোয়া গেছে। এছাড়া গান্ধিগাঁও গ্রামের মঞ্জু মিয়ার একটি গরু ও সবুজ মিয়ার একটি ভেড়া আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। উত্তর বাকাকুড়া গ্রামের গুজা ওরফে গজেন্দ্র মারাকের আট বছর বয়সী ছেলেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনার পর সীমান্তের ওই গ্রামগুলোতে বাঘ আতংক বিরাজ করছে।

রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিট কর্মকর্তা মকরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, আমিও বিষয়টি শুনেছি, শোনার পর এ বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিরাপদে থাকতে বলেছি। প্রয়োজনে পুরো এলাকায় মাইকিং করা হবে।

এ ব্যাপারে শেরপু‌রের সহকা‌রি বন সংরক্ষক আবু ইউসুফ সাংবাদিকদের ব‌লেন, সীমান্তে যে বাঘের কথাটি শুনা যাচ্ছে এটা আসলে কতটা সত্যি তা আমার জানা নেই। তারপরও আমরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর রাখছি। তিনি আরো জানান, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) এলাকাবাসীর সচেতনতার জন্য মাইকিং করা হবে।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: