প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মোঃ আসাদুজ্জামান

বরগুনা প্রতিনিধি

ছেলের বটির কোপে বাবা চাচা হাসপাতালে, থানায় মামলা দায়ের

   
প্রকাশিত: ৭:৪৯ অপরাহ্ণ, ৬ অক্টোবর ২০২২

বরগুনার আমতলীতে তুচ্ছ ঘটনায় ছেলের বটির কোপে বাবা ও চাচা গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতাল শয্যায় কাতরাচ্ছে।ওই ঘটনায় মামলার পর পুলিশ অপরাধী ছেলে ও মাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৮ টার দিকে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আমতলী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস এলাকার রনজিৎ হাওলাদার দুর্গাপুজার মন্ডপে দায়িত্বরত আনসার বিডিপি সদস্যদের জন্য মঙ্গলবার সকালে একটি স্ট্যান্ড ফ্যান সরবরাহ করে। ফ্যানটি ছিল ছেলে বিশ্বজিত হাওলাদারের। সময়মত ফ্যানটি বাড়িতে নিয়ে না আসায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাবা রনজিৎ হাওলাদারের সাথে তর্কে লিপ্ত হয় ছেলে বিশ্বজিৎ হাওলাদার।

এসময় তার মা অনিমা রানী ছেলের পক্ষ অবলম্বন করায় তর্কের এক পর্যায়ে ছেলে বিশ্বজিৎ হাওলাদার ঘর থেকে একটি দাঁড়ালো বটি এনে বাবা রনজিৎ হাওলাদারের (৫৬) বাম হাতের সিনায় কোপ দেয়। এতে তার সিনা কেটে রক্তাক্ত জখম হলে তার ছোট ভাই ধর্মরাজ হাওলাদার (৪২) ভাই রনজিৎ হাওলাদারকে রক্ষার জন্য এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করে। তাৎক্ষনিক ন্বজনরা তাদের দুই ভাইকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য এনে ভর্তি করেন।

ওই ঘটনায় আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ছেলে বিশ্বজিৎ ও তার মা অনিমা রানীকে আসামী করে রনজিৎ হাওলাদার বাদী হয়ে আমতলী থানায় একটি মামলা করেন। বিকেলে আসামীদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ছেলের বটির কোপে গুরুতর আহত বাবা রনজিৎ হাওলাদার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, বিনা কারনে মোরে ছেলে বিশ্বজিৎ বটি দিয়া কোপাইয়া গুরুতর আহত করছে। চাচা ধর্মরাজ হাওলাদার বলেন, ভাইরে ছেলে বিশ্বজিৎ তার বাবাকে কোপায় মুই ধরতে গেছি। মোরেও কোপাইয়া আহত করছে। তিনি আরো বলেন, ওই ঘটনায় বিশ্বজিতের মা ছেলেকে সহযোগিতা করায় সে বেশী সাহস পাওয়ায় আমাদের দুই ভাইকে কুপিয়েছে।

আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ ফারহান ফারুকী মুঠোফোনে বলেন, রনজিৎ এবং তার ভাই ধর্মরাজের সিনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় ছেলে বিশ্বজিৎ ও তার মা অনিমা রানীকে আসামী করে রনজিৎ হাওলাদার বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলার পর আসামীদের গ্রেপ্তার করে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: