প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারলো না রিফাত

   
প্রকাশিত: ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ, ৭ অক্টোবর ২০২২

মায়ের চিকিৎসা শেষে বগুড়ায় বাড়িতে নিয়ে আসতে বোনের বাসা কুমিল্লায় গিয়েছিলেন রিফাত হাসান। তবে বাড়ি আর ফেরা হয়নি। প্রাইভেটকারে করে মাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাশে সড়কে বাসচাপায় প্রাইভেটকার পিষ্ট হয়ে মা-ছেলে নিহত হন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসটির চার যাত্রী নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৩৫ যাত্রী।

নিহত রিফাত হাসান বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন ও রুবি বানুর (৬০) একমাত্র ছেলে। রিফাতের বয়স ৩০ বছর। রিফাত পেশায় ব্যবসায়ী। তার সাত বছরের একটি ছেলে ও তিন বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। রিফাতের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় আজ সকাল ৮টায়। সেই কথাই শেষ কথা।

তিনি আরো জানান, তার শাশুড়ি রুবি বেগম কুমিল্লা সেনানিবাসে মেয়ে রাফসানার বাসায় থেকে গত তিন মাস ধরে কিডনি ও হৃদযন্ত্রের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর গত সপ্তাহে তিনি ছেলেকে ফোন করে বগুড়ার বাড়িতে আনার জন্য কুমিল্লা যেতে বলেন। গতকাল বুধবার (৫ অক্টোবর) একটি প্রাইভেটকার নিয়ে মাকে আনতে রিফাত কুমিল্লা সেনানিবাসে যায়। পরবর্তীতে  বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে মাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পরবর্তীতে দুপুর ১টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাশে বগুড়া থেকে ঢাকামুখী একতা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারায়। বাসটি রিফাতদের প্রাইভেটকারটির ওপর উঠে যায়। ফলে ঘটনাস্থলেই রিফাত ও তার মা রুবি বানু নিহত হন এবং প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায়। প্রাইভেটকারের চালক গুরুতর হয় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

রিফাতের বাবা প্রকৌশলী হেলালউদ্দিন জানান প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা সেনানিবাসে বসবাসরত মেয়ের বাসায় যান তার স্ত্রী রুবি। চিকিৎসা শেষে মাকে আনতে ছেলে রিফাত গত মঙ্গলবার কুমিল্লায় যায়। সেই উদ্দেশ্যে আজকে (বৃহস্পতিবার) মাইক্রো ভাড়া করে বগুড়ায় ফিরছিলেন মা-ছেলে।

দুর্ঘটনার পর টাঙ্গাইল থেকে ফোন করে স্ত্রী ও ছেলের মৃত্যুর খবর দেয়। খবর পেয়ে বগুড়া থেকে আমার ভাগ্নি আর কুমিল্লা থেকে মেয়ে-জামাই রওয়ানা দেয় টাঙ্গাইলে। বঙ্গবন্ধু সেতু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মধ্যে দুজন বগুড়ার। বাকিরা পাবনা, নাটোর ও কুমিল্লার বাসিন্দা।

রেজানুল/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: