প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

বিএমডিপোতে কন্টেইনার বিস্ফোরণ: ছেলেকে চার মাস ধরে খুঁজছেন বাবা

   
প্রকাশিত: ১১:২৪ অপরাহ্ণ, ৭ অক্টোবর ২০২২

ছবি - প্রতিনিধি

কামরুল হাসান নিরব, (ফেনী) থেকে: চট্টগ্রামের বিএমডিপো কন্টেইনারে বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচ মাস পার হয়ে গেলেও ফেনীর ফুলগাজির সদর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামের বদিউল আলমের ছেলে ইয়াসিনের খোঁজ নেই আজও। তার ব্যবহৃত সেল ফোনে এখনো সংযোগ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিস্ফোরণের পূর্বে সেলফোন দিয়ে দিয়ে একটি লাইভ সম্প্রসারণ করেন ইয়াছিন।লাইভ করতে করতে হঠাৎ বিস্ফোরণে তার ভিডিওতে অন্ধকার দেখা যায়। এরপর ইয়াসিনের আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি, বেঁচে আছে না মারা গেছে এই খবরটি পর্যন্ত এখনো নিশ্চিত নয় তার পরিবার।

তিনি কনটেইনার ডিপোর লরি চালক হিসেবে কাজ করতেন। নিখোজ ইয়াছিনের পরিবার জানায়, গত ৪ জুন ঢাকার গুলশান এভিনিউ থেকে এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেডের কাপড় নিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোয় পৌঁছান ইয়াছিন। রাতে বিএম কনটেইনার ডিপো থেকে মালপত্র নিয়ে আবার রাতেই ঢাকা ফেরার কথা ছিল লরি চালক ইয়াছিনের। তাই দিনভর ঘুমিয়ে সন্ধ্যায় ইয়াছিনের লরি মালপত্র লোড করার জন্য ডিপোর ভেতরে গুদামের সামনে সিরিয়ালে ছিল। ডিপোয় আগুন লাগলে সেই দৃশ্য ইয়াছিন ফেসবুকে লাইভ করে সবাইকে দেখানোর চেষ্টা করেন।

ইয়াছিনের বাবার সাথে কথা বললে তিনি জানান’ ভাতিজা ইউসুফ বিস্ফোরণের সময় তার ফেসবুকে লাইভ দেখে কল দিয়েছিল। সাবধান থাকতে বললে ইয়াসিন ইউসুফকে বলেন ‘ভাই, আগুনের অবস্থা ভয়াবহ দোয়া করিস। কি হবে বলতে পারি না। এরপর কল কেটে ইউসুফ আবার ফেসবুকের দিকে মনোযোগী হলে তখন দেখা যায় তার ভিডিওটি অন্ধকার হয়ে গেছে। এরপর তাকে কল করলে আর সংযোগ পাওয়া যায়নি।

ইয়াছিনের বাবা বদিউল আলম আরও জানান, ছেলের সেলফোন বন্ধ পেয়ে দ্রুত আমরা সিতাকুণ্ডের ডিপোয় যাই। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হতাহতদের মাঝে ইয়াছিনকে খুঁজি। নিহতের মরদেহগুলো বারবার দেখেছি। কিন্তু ইয়াছিনের সন্ধান মেলেনি। ছেলেকে জীবিত পাওয়া অথবা ছেলের মরদেহ শনাক্তের জন্য আমার ডিএনএ নমুনাও দিয়ে এসেছি।

কখনো কখনো ছেলে হারানোর বেদনা সহ্য করতে না পারলে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ছুটে যাই। নিহতদের মরদেহগুলো ঘুরেফিরে দেখি। তিনি জানান, রোববারও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছি। এখনো ডিপোয় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪ জনের মরদেহ শনাক্তের জন্য রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে; ডিএনএ নমুনা অনুযায়ী আপনার ছেলের মরদেহ থাকলে সেলফোনে জানানো হবে।

ইয়াসিনের মা জানান, আমার চার মেয়ে ও তিন ছেলের মাঝে ইয়াসিন ছিল তৃতীয়। পারিবারিক সচ্ছলতার আশায় ১০ বছর আগে ইয়াসিন সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপোয় গাড়ি চালকের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রায় দুই বছর আগে থেকে ইয়াসিন পদোন্নতি পেয়ে বিএম কনটেইনার ডিপোর লরি চালক হন। উল্লেখ্য, গত ৪ জুন রাত ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের কনটেইনার ডিপোয় আগুন লাগে। ১১টার দিকে পরপর বিস্ফোরণে চতুর্দিক কেঁপে ওঠে। রাত ৩টার দিকে আগুনের ভয়াবহতা ৪ শতাধিক কনটেইনারে ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আশরাফুল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: