প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

আনু হাসান

গাজিপুর প্রতিনিধি

ফ্রান্সে ও লন্ডনে অবস্থানকারী বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে গাজীপুরে পুলিশের মামলা

   
প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, ১২ অক্টোবর ২০২২

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নিহত নেতা-কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয়কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১০ অক্টোবর) গাজীপুরে সমাবেশ ও শোকমিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। একর্মসূচিতে কেন্দ্র করে গাজীপুর শহরের রাজবাড়ী সড়কে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে পুলিশের চার সদস্যসহ ৩৫ জন আহত হন। ওই দিন রাতেই গাজীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক আল আমিন বাদী হয়ে জনমনে ভীতি সঞ্চার ও ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপির ৫৪ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ এ মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। সদর থানার ওসি মো. নাজমুল ইসলাম জানান, সড়ক অবরোধ করে মিছিল করতে নিষেধ করলেও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। পরিস্থিতি নিযন্ত্রণ করতে পুলিশ লাঠিপেটাসহ কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার এক নম্বর আসামি জেলা বিএনপির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মিলন ও সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নানের নির্দেশে অন্য আসামিরা রাস্তা অবরোধ, পুলিশের উপরহামলা তথা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। ওই সময় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সোহরাব উদ্দিন ও গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম দেশের বাইরে ছিলেন।

গাজীপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সোহরাব উদ্দিন ব্যবসায়িক কাজে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গেছেন ৫ অক্টোবর। আর গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম ৭ অক্টোবর ব্যক্তিগত সফরে ফ্রান্সে গেছেন। বর্তমানেও তারা দেশের বাইরে আছেন। তারপরও গত সোমবার গাজীপুরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের মামলায় দলটির এ দুই নেতাকে আসামিকরা হয়েছে। সোহরাব উদ্দিন ও নূরে আলমকে যথাক্রমে ৬ ও ১২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সায়্যেদুল আলম তাঁদের বিদেশে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি জেলা বিএনপির থাকায় মহানগরের অনেক নেতাই সেখানে উপস্থিত হননি, কিন্তু পুলিশ হয়রানি করার জন্য তাঁদেরকেও আসামি করেছে। এব্যাপারে আসামি সোহরাব উদ্দিনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি ৫ অক্টোবর বাহরাইন ও পরদিন সেখান থেকে লন্ডনে তাই। এখন ও সেখানেই আছেন। তিনি প্রমাণ হিসেবে তার বিমান টিকেটের অংশ পাঠিয়েছেন। তবে ফ্রান্সে অবস্থানরত নূরে আলমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এব্যাপারে গাজীপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, মামলার আসামিরা সবাই ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং গ্রেপ্তার আসামি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁদের আসামি করা হয়েছে। অপর দিকে মামলার বাদী এস.আই আলামিন জানান, ঘটনা স্থলে গ্রেপ্তার আসামিদের দেয়া তথ্যমতে ওই দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: