প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

হারুন অর রশিদ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ: রাতের আধাঁরে ১৫ হাজার চারাগাছ কাটলো দুর্বৃত্তরা

   
প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ণ, ১২ অক্টোবর ২০২২

পঞ্চগড়ের বোদায় রাতের আধাঁরে শত্রুতাবশত আবুল কাশেম নামে এক বর্গা চাষীর এক একর জমির ১৫ হাজার বাঁধা কপির গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গেল রাতে বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের লাঠুয়াপাড়া গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই চাষী। মানুষের প্রতি শত্রুতা করে ফসলের ক্ষেত কেটে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকসহ জনপ্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ চাষী।

সরেজমীনে গিয়ে দেখা যায়, আবুল কাশেম নামে এক বর্গা চাষী কয়েক বছর ধরে বর্গা নিয়ে এক একর জমিতে বাঁধা কপির চাষ করে আসছেন। প্রায় এক মাস কঠোর পরিশ্রম করে বাঁধা কপির গাছ বড় করেছেন। বুধবার সকালে ক্ষেতে গিয়ে দেখতে পান কে বা কারা বাঁধা কপির গাছগুলো কেটে দিয়েছে। কৃষক আবুল কাশেম ও পার্শবর্তী জমির কৃষকেরা জানান চারা, সার কীটনাশকসহ বাঁধা কপির চাষাবাদ করতে প্রায় লাখ দুয়েক টাকা ব্যয় হয়েছে। পুরো ক্ষেতের গাছ কেটে ফেলেছে। আমার স্বপ্ন নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। আশা ছিল এ বছর ক্ষেত থেকে ৭/৮ লাখ টাকার বাঁধা কপি বিক্রি করব। কিন্তু এক একর জমির বাধা কপি তুলে ফেলায় সপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেছে। বর্তমানে দেনা পরিশোধ করার চিন্তায় মগ্ন আবুল কাশেম। তিনি সাংবাদিকদের জানান যারা আমার সঙ্গে শত্রুতা করে ফসলের গাছ কেটে দিয়েছে তাদের বিচার ও ক্ষতিপুরণ চান ক্ষতিগ্রস্থ ওই চাষী।

জমির মালিক আজহারুল ইসলাম রুবেল বলেন, আবুল কাশেম আমার জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বাঁধা কপি চাষ করেছে। রাতের অন্ধকারে দুবৃত্তরা ১৫ হাজার গাছ কেটে দিয়েছে। মানুষের সঙ্গে শত্রুুতা থাকতে পারে তাই বলে ফসলের ক্ষেত কেটে ফেলবে এটা মেনে নেয়া যায় না।

চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি ক্ষতিগ্রস্থ চাষীর ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা নির্মম ও বর্বরতার কাজ করেছে। বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাসহ আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছি।

বোদা উপজেলা বৃষি কর্মকর্তা আল মামুন অর রশিদ বলেন, আমি ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। পূর্ব শক্রুতার জের ধরে এমনটি ঘটেছে। এটি একটি ফৌজদারী অপরাধ। আমরা বিষয়টির তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করবো।

বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.সোলেমান আলী অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কৃষি কর্মকর্তাকে বলেছি। পুলিশকেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছি। ক্ষতিগ্রস্থ চাষীকে প্রণোদনাসহ আপদকালীন সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেবো।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: