প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

ফরিদুল ইসলাম রঞ্জু

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই, কে হাসবে বিজয়ের হাসি!

   
প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, ১৩ অক্টোবর ২০২২

ঠাকুরগাঁও আগামী ১৭ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহন। প্রার্থীতা ঘোষণার পর থেকেই ব্যাপক প্রচারণাচালাচ্ছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হেভিওয়েট দুই সদস্য প্রার্থী। তাদের একজন হলেন- ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের সাধারণসম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য দেবাশীষ দত্ত সমীর, তাঁর নির্বাচনী প্রতিক ‘অটো রিক্সা’ ও অন্যজন হলেন-মোশারুলইসলাম সরকার, তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান, তার নির্বাচনী প্রতিক ‘টিউবওয়েল’।

দুই প্রার্থীই ক্ষমতাসীন দলের, তাই যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বেছে নিতে ভোটাররাও রয়েছে নানা দ্বিধা-দ্বন্দে।এদিকে দিন যতো ঘনিয়েআসছে নির্বাচনে জিততে দুই প্রার্থীই মরিয়া হয়ে উঠেছেন। স্ব স্ব অবস্থানে থেকে ভোটারদের মন ভোলাতে দুই প্রার্থীই দিন-রাতছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে এই ভোটে সাধারণ নাগরিকরা ভোটার নন, ভোটাররা হলেন-পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারগণ।

জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় মোট ভোটার ৩০৬ জন, এরমধ্যে পৌরসভার একজন কাউন্সিলর অব্যাহতি নিয়ে জেলাপরিষদের সংরক্ষিত আসনে সদস্য প্রার্থী হওয়ায় ভোটের সংখ্যা এখন দাড়িয়েছে ৩০৫টি।এক জরিপে জানা যায়, ইউনিয়নপরিষদের নির্বাচিত মেম্বারদের মধ্যে ৩৪ জন মেম্বারই যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বে রয়েছেন।এছাড়াও নির্বাচিত মেম্বারদেরমধ্যে ৬২জন সদস্য হিন্দু সম্প্রদায়ের। ভোটের হিসেবে মতে ধরে নেওয়া যায় এই ভোটগুলো স্বাভাবিকভাবেই যুবলীগের সাধারণসম্পাদক দেবাশীষ দত্তের পক্ষে কাজ করবে। অপর দিকে ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ চেয়ারম্যানরা কাজ করছে সদরউপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলামের পক্ষে।

এদিকে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া নিয়ে জেলার সাধারণ মানুষের মনে কৌতুহলের দানা বাঁধতে শুরুকরেছে। অনেকেই ভাবছে নিজেদের মধ্যে নির্বাচনী যুদ্ধে দাড়ানোটা মোটেও সমুচীন হয়নি।সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টিসমঝোতার মাধ্যমে নিরসন করে একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারলে দলের জন্য শুভকর হতো।কেননা এতে করে দলেরভিতর দল তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়, নেতা-কর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দে ভুগেন।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভূট্টোর সাথে কথা হলে তিনি জানান, জেলাপরিষদের সদস্য পদে নির্বাচন যদিও বিষয়টি আহামরি কিছু নয়, তারপরও যদি আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা দুই প্রার্থীকে নিয়েবসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারতেন, আমার মনে হয় ভালো কিছু একটা রেজাল্ট আসতো, আমি মনে করি আমরা সেজায়গায় ব্যর্থ হয়েছি। কেননা দু’জনই আমাদের দলীয় লোক। এখন যেহেতু নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে এবং দুই প্রার্থীই মাঠে সরব, এখানে যে প্রার্থীই ভোটারদের মন জয় করতে পারবে সেই বিজয়ী হবে। আর আমাদের দলীয়ভাবে কাউকে যেহেতু সমর্থন দেওয়াহয়নি, তাই জেলা নেতৃবৃন্দরা এ বিষয়ে কেউ হস্তক্ষেপ করছে না।

নির্বাচন বিষয়ে জানতে ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিশ্বাস জেলা পরিষদের নির্বাচন সম্পুর্ণ সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবং সুষ্ঠু ভোট হলে আমার সাধারণসম্পাদক দেবাশীষ দত্ত সমীর বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।কেননা এর আগে সে জেলা পরিষদের একজন অন্যতম সদস্য ছিলোএবং সদস্য থাকাকালীন সরকারি যেসকল অনুদান সে পেয়েছে তা সুষ্ঠুভাবে বন্টন করে দিয়েছে, তার কোনো অনিয়ম কেউদেখাতে পারবে না।শুধু সরকারি অনুদানই নয়, সে ব্যক্তিগতভাবেও মানুষের বিপদে-আপদে এমনকি করোনাকালিন সময়েওসামর্থানুযায়ী মানুষের পাশে দাড়িয়েছে।কাজেই চেয়ারম্যান-মেম্বার ও কাউন্সিলররা তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে বলেআমার বিশ্বাস।

এদিকে নির্বাচনী পরিবেশ কিরকম রয়েছে এবং নির্বাচনে জয় লাভের বিষয়ে জানতে চেয়ে জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী মো: মোশারুল ইসলাম সরকারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

একই বিষয়ে জানতে জেলা পরিষদের সদর উপজেলার আরেক প্রার্থী দেবাশীষ দত্ত সমীরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করাহলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রয়েছে। ভোটাররা অধীর আগ্রহে ভোট দানের অপেক্ষা করছে। আমিশতভাগ আশাবাদি যদি সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয় তাহলে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।

প্রসঙ্গত, ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিলো ১৫ সেপ্টম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই হয় ১৮ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিলের সময় ছিলো ১৯-২১ সেপ্টেম্বর, আপিলনিস্পত্তি হয় ২২-২৪ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিলো ২৫ সেপ্টম্বর, প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয় ২৬ সেপ্টেম্বর ও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ অক্টোবর ২০২২ ইং তারিখে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: