প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

আবদুল কাদির

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহে উৎপাদিত খাদ্যশস্যে চলবে দুই বছরের বেশি, ঘাটতি গমে

   
প্রকাশিত: ১২:৩৬ অপরাহ্ণ, ১০ নভেম্বর ২০২২

ছবি: প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ বিভাগের বাৎসরিক বিপুল পরিমাণ ধান ‘চাল’ জাতীয় খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। গম ভুট্টার বিপুল পরিমান ঘাটতি রয়েছে। তবে, গম-ভুট্টার আবাদে কৃষকদের আগ্রহী করার কথা জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তা। ময়মনসিংহ বিভাগে মোট খাদ্য শস্য উৎপাদন হয় ৪৭ লক্ষ ৮৮ হাজার। এর থেকে মোট খাদ্য চাহিদা ১৮ লক্ষ ৬ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন বাদ দিলে উদ্বৃত্ত থাকে ২৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ৯৪২ মেট্রিক টন।

জেলায় মোট খাদ্য চাহিদা ১০ লক্ষ ৭৬ হাজার ৭৭১ থেকে মোট উৎপাদন ১৯ লক্ষ ৯ হাজার ৫৫৪ মেট্রিক টন বাদ দিলে মোট উদ্বৃত্ত থাকে ৮ লক্ষ ৩২ হাজার ৭৮৩ মেট্রিক টন।

বিভাগীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট আউশ ধান উৎপাদন ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন, আমন ধান ২৫ লক্ষ ২০ হাজার ৫৪৪ মেট্রিক টন, বোরো ধান ৪২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৪৪ মেট্রিক টন। গম উৎপাদন ২৫ হাজার ৭৭ মেট্রিক টন ও ভুট্টা উৎপাদন ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৮৬৯ মেট্রিক টন। ওই অর্থ বছরে চালের উৎপাদন আউশ ৭৭ হাজার ৩২৮ মেট্রিক টন, আমন ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন, বোরো ২৮ লক্ষ ২২ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন।

জনশুমারি অনুযায়ী বিভাগে জনসংখ্যা ১ কোটি ২২ লক্ষ ১৯ হাজার ৭১১ জন। জনপ্রতি খাদ্য চাহিদা ৪০৫ গ্রাম করে মোট খাদ্য চাহিদা ১৮ লক্ষ ৬ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন। বছরে মোট খাদ্য শস্য উৎপাদন ৪৭ লক্ষ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন থেকে থেকে বীজ গো-খাদ্য বাবদ ৫ লক্ষ ২৬ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন বাদ দিলে থাকে ৪২ লক্ষ ৬১ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন। মোট খাদ্য উৎপাদন ৪২ লক্ষ ৬১ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন থেকে মোট খাদ্য চাহিদা ১৮ লক্ষ ৬ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক বাদ দিলে উদ্বৃত্ত থাকে ২৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ৯৪২ মেট্রিক টন।

জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায় ২০২১-২২ অর্থবছরে আউশ ধান উৎপাদন হয় ৭৮ হাজার ১৬২ মেট্রিক টন, আমন ধান ১১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৮৩৭ মেট্রিক টন, বোরো ধান ২৮ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩৩১ মেট্রিক টন। বছরে মোট ধান উৎপাদন ২৮ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩৩১ মেট্রিক টন। বছরের চাল উৎপাদনের পরিমান, আউশ ৫২ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন, আমন ৭ লক্ষ ৫৬ হাজার ৫৫৮ মেট্রিক টন, বোরো ১১ লক্ষ ৮৮৮ মেট্রিক টন। বছরে মোট চাল উৎপাদন ১৯ লক্ষ ৯ হাজার ৫৫৪ মেট্রিক টন। এদিকে বছরে মোট গম উৎপাদন ৬ হাজার ৬৭৮ মেট্রিক টন।

গত (নতুন যে জনশুমারি করা হয়েছে সেটা নয়) এর আগের জনশুমারি অনুযায়ী জেলায় মোট জনসংখ্যা ৫৩ লক্ষ ১৩ হাজার ১৬৩ জন। জন প্রতি দৈনিক ৪৪২ গ্রাম করে মোট ৮ লক্ষ ৫৭ হাজার ১৭৩ মেট্রিক টন মোট খাদ্য চাহিদা। বছরে মোট ফসলের অপচয় ১১.৫০ শতাংশ করে ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৫৯৮ মেট্রিক টন। মোট খাদ্য চাহিদা ও মোট অপচয়ের পরিমান ১০ লক্ষ ৭৬ হাজার ৭৭১ মেট্রিক টন।

এর মাঝে জেলায় অপচয় সহ খাদ্য চাহিদা মোট ১০ লক্ষ ৭৬ হাজার ৭৭১ থেকে মোট উৎপাদন ১৯ লক্ষ ৯ হাজার ৫৫৪ মেট্রিক টন বাদ দিলে মোট উদ্বৃত্ত থাকে ৮ লক্ষ ৩২ হাজার ৭৮৩ মেট্রিক টন। জেলার সদর উপজেলার চর লক্ষীপুরের ভাটিপাড়া এলাকার কৃষক সুমন বলেন, আমরা আগে গম চাষ করতাম। কিন্তু, এখন করি না। কারণ হলো, গম চাষ করলে বোরোর ফসল করা যায় না। গম চাষের চাইতে, ধান চাষ করলে বেশি লাভ হয়। তাছাড়া, গম চাষের জন্য কৃষি অফিস গুলো কোন সহায়তা বা পরামর্শ দেয় না। সব মিলিয়ে এখন কৃষকদের মাঝে গম চাষের আগ্রহ কমে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

চর ঈশ্বরদিয়া মুন্সিবাড়ি এলাকার কৃষক কাশেম মিয়া বলেন, আমরা আগে গম চাষ করতাম। কিন্তু গম চাষ করলে বোরোর ফসল করা যায়। গমের চাইতে ধান চাষে লাভও বেশি। তাছাড়া, কৃষি অফিসের লোকজন সঠিক সময় সঠিক পরামর্শ দেয় না, সহায়তা করে না। এতে আমাদের ক্ষতি হয়। তাই, এখন গম চাষ করি না বললেই চলে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন বিডি২৪লাইভকে বলেন, ময়মনসিংহ মূলত ধান উৎপাদনকারী অঞ্চল। আমরা যদি সারাদেশ ব্যাপী হিসাব করি। তাহলে বাংলাদেশের ১৪ টা অঞ্চলের মধ্যে বৃহৎ ধান উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি ময়মনসিংহ। বিভাগে প্রায় ১ কোটি ২২ লক্ষ মানুষের বসবাস।

তিনি বলেন, আমরা সারা বছরব্যাপী ধান গম ভুট্টাসহ উৎপাদন হয় ৪৭ লক্ষ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন। যা থেকে গো-খাদ্য ও বীজসহ বাদ দেয়া হয় ৫ লক্ষ মেট্রিকটন। আমাদের বিভাগে চাহিদার বিপরিতে ২৪ লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। যা দিয়ে অন্য একটি অঞ্চল চলবে। এই কারণে আমাদের অঞ্চল নিয়ে আমরা গর্ভবোধ করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ করছি, বোরো মৌসুমে ২৮ এবং ২৯ জাতের ধান উৎপাদন বেশি ছিল। কিন্তু এখন ফলন কমে যাচ্ছে। এই বছর আমরা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। এতে ২৮ জাতের পরিবর্তে ৮৮ এবং ২৯ এর পরিবর্তে ৮৯ জাতের ধান রোপন করার জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। যদি ৮৮ ও ৮৯ জাত রোপন হয়৷ তাহলে বিঘা প্রতি ৩০ মন ধান উৎপাদন সম্ভব।

মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, সরকারেরও টার্গেট যে ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ করতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশে যদি যেতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদের আয় বাড়াতে হবে। আর আয় বাড়াতে হলে আমাদের কৃষক যারা আছেন। তাদের কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া কোন গতি নাই।

তিনি বলেন, ধান উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের আরও একটা লক্ষ আছে। তা হলো, তেলের উৎপাদন বাড়ানো। দেশে আমাদের চাহিদার ১২ শতাংশ তেল দেশে উৎপাদন হয়। সরকার চাইছে তেল উৎপাদন করে তা ৪০ শতাংশে আনতে। যে কারনে আমরা সরিষা আবাদে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমাদের এই অঞ্চলে যে পরিমান সরিষার আবাদ হয়। তার থেকে ৪ থেকে ৫ ভাগ আবাদ বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে আমরা আসা করছি এবং এটা সম্ভব হবে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: