প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

এহসানুল হক মিয়া

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিএনপির গণসমাবেশ আজ: পায়ে হেটে ও অটোভ্যানে সমাবেশে মানুষের ঢল

   
প্রকাশিত: ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ, ১২ নভেম্বর ২০২২

ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ আজ শনিবার (১২ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় ফরিদপুর সদর উপজেলার আব্দুল আজিজ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে। সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও পায়ে হেটে ও অটোভ্যানে করে সমাবেশে যোগ দিয়েছে হাজারও বিএনপির নেতাকর্মী। ফরিদপুর শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার কোমরপুর আব্দুল আজিজ ইনস্টিটিউট মাঠে দু’দিন আগে থেকেই নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়।

এ গণসমাবেশে প্রধান অতিথি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা আগেই গণসমাবেশস্থলে এসে পৌঁছেছেন। চলছে বাস ও মিনিবাস ধর্মঘট। এতে ফরিদপুরের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে সব বাঁধাকে পেরিয়ে সমাবেশে যোগদানে বদ্ধ পরিকর বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এসময় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। বিশেষ অতিথি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু, ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর।

শুক্রবার রাতে দেখা যায় নেতা-কর্মীদের ভিড়ে একদিন আগেই কানায় কানায় ভরে গেছে কোমরপুরের জনসভাস্থল। বাস ও মিনিবাস ধর্মঘট উপেক্ষা করে বিভিন্ন উপায়ে সেখানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৌঁছাচ্ছেন। তারা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রদক্ষিণ করছেন সমাবেশের মাঠ ছাড়িয়ে আশেপাশের এলাকা। এতে সেখানে এক ভিন্ন আমেজের সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, তাদের এই গণসমাবেশে নির্ধারিত সমাবেশস্থল ছাড়িয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় পেরিয়ে দুই কিলোমিটার দূরে শহর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। শুক্রবারের মধ্যেই গণসমাবেশের মূল মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বাইরে গণসমাবেশের মাইক লাগানো হচ্ছে প্রায় এককিলোমিটার জুড়ে।মহাসড়কে ‘থ্রি-হুইলার বন্ধের দাবি’ জানিয়ে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত ৩৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে ফরিদপুরের মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এর পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে বিআরটিসির বাস চলাচলও।

ফরিদপুর বিআরটিসি বাস পরিবহনের সহকারী পরিচালক মামুন হাসান বলেন, শুক্র ও শনিবার ফরিদপুর থেকে সব পথে তাদের বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি আমরা। বিএনপির গণসমাবেশকে সামনে রেখে ৩৮ ঘণ্টার এই বাস ও মিনিবাস ধর্মঘটের ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

এদিকে বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় গণসমাবেশের সমন্বয়কারী কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম (রিংকু) বলেন, বেসরকারি বাসের পাশাপাশি দুই দিন বিআরটিসি বাস বন্ধ করার কারণ আমাদের গণসমাবেশকে বাধা দেওয়া। কিন্তু এতে বিএনপির গণসমাবেশে কোনো সমস্যা হবে না। কেননা বাধা পেলেই মানুষ বেশি বের হয় বাঁধভাঙার জন্য। তবে সমস্যা ও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে যাত্রী সাধারণকে।

কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল জানিয়েছেন, গণসমাবেশে হলুদ ক্যাপ মাথায় সামনের সারিতে থাকবে তাদের কর্মীরা। ফরিদপুরের এই গণসমাবেশ স্মরণকালের ঐতিহাসিক সমাবেশ হিসেবে পরিগণিত হবে।বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, গোপালগঞ্জ থেকে দুই হাজার নেতা-কর্মী এসেছেন। তিনি মঞ্চের পাশের সামিয়ানাগুলো দেখিয়ে বলেন, সবগুলো সামিয়ানা গোপালগঞ্জের। এরকম সব জেলা থেকেই নেতা-কর্মী আসছেন।

এদিকে এ গণসমাবেশকে ঘিরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: