প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

১৮ বছর প্যারিসের বিমানবন্দরে বাস করা সেই নাসেরি মারা গেছেন

   
প্রকাশিত: ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ, ১৩ নভেম্বর ২০২২

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ফ্রান্সের প্যারিসের বিমানবন্দরে বসবাস করা ইরানের সেই নাগরিক মারা গেছেন। কূটনৈতিক অস্থিরতায় আটকে থাকা মেহরান করিমি নাসেরি ১৯৮৮ সালে রয়সি চার্লস ডি গল বিমানবন্দরে বসবাস শুরু করেছিলেন বলে এক প্রতিবেদনে জনিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বিমানবন্দরের লাল সোফায় বসে নাসেরির লেখা আত্মজীবনী ‘দ্য টার্মিনাল ম্যান’ বই হিসেবে প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। পরে বইটি থেকে ‘দ্য টার্মিনাল’ সিনেমা বানান বিশ্বখ্যাত চিত্র পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওযা সিনেমাটিতে নাসেরির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন টম হ্যাঙ্কস। ঘটনাবহুল নাসেরির জীবনের পুরো চিত্রই উঠে এসেছে এতে।

বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, নাসেরিকে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি কয়েক সপ্তাহ আগে বিমানবন্দরে ফিরে আসেন। সেখানেই তিনি প্রাকৃতিক কারণে মারা যান। ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে আছে জন্মগ্রহণ করা নাসেরি মায়ের খোঁজে প্রথমে ইউরোপে যাত্রা করেন। পর্যায়ক্রমে তিনি বেলজিয়া, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ড ও জার্মানিতেও অবস্থান করেন।

তবে অভিবাসনের কাগজপত্র না থাকায় এসব দেশ থেকে বের হয়ে যেতে হয় তাকে। এরপরই ফরাসি বিমানবন্দরের টু-এফ টার্মিনালে তার বসবাস শুরু। নিজের জমানো জিনিসপত্রের ট্রলি দিয়ে ঘেরা বেঞ্চে বসে নাসেরি একটি চিরকুটে তার জীবন সম্পর্কে লিখে এবং বই ও সংবাদপত্র পড়ে দিন কাটাতে থাকেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপি।

১৯৯৯ সালে শরণার্থীর মর্যাদা এবং ফ্রান্সে থাকার অধিকার পাওয়া সত্ত্বেও ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিমানবন্দরে থাকেন নাসেরি। পরে তাকে অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়। ফরাসি পত্রিকা লিবারেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটির জন্য তিনি যে অর্থ পেয়েছিলেন তা দিয়ে তিনি একটি হোস্টেলে থাকতেন।

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে আবারও বিমানবন্দরে ফিরে আসেন নাসেরি। যেখানে তার জীবনের বহু সময় কেটে গেছে, সেখানেই থাকতে শুরু করেন তিনি। তার মৃত্যুও হয়েছে সেখানেই।

ইমদাদ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: