প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

শাহীন মাহমুদ রাসেল

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার সদর আ’লীগের সম্মেলন ঘিরে উত্তেজনা, সংঘর্ষের আশঙ্কা

   
প্রকাশিত: ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ, ১৭ নভেম্বর ২০২২

কক্সবাজার সদর উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল আগামী ১৯ নভেম্বর। কক্সবাজার পৌরসভার প্রিপ্যারটরি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সম্মেলন ও কাউন্সিল হবার কথা রয়েছে। তবে, কাউন্সিলে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অনেকে বাদ দিয়ে মাইম্যান তৈরি করতে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার লোকদের কাউন্সিলর করায় উপজেলা আওয়ামী লীগে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এতে সম্মেলনে সংঘর্ষ হতে পারে বলে নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ৭ ডিসেম্বর কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে এসব বিশৃঙ্খলা মেনে নিতে পারছে না দলের ত্যাগীরা। তাদের মতে, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সদর আ.লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দলের জন্য দুর্নামই বয়ে আনতে পারে।

ইতোমধ্যে দলের হাইকমান্ড থেকে এমন বার্তা এসেছে যে, মেধাবী, সৎ, যোগ্য, সমাজে সমাদৃত, পারিবারিকভাবে আওয়ামী পরিবারের সন্তান হবেন এমন ব্যাক্তিকে সম্মেলনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করা হবে। বিভিন্ন সময়ে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে সংগঠনের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার সাথে জড়িত কাউকে এতে মূল্যায়ন করা হবে না বলে জানিয়েছেন দলের হাইকমান্ড।

কিন্তু সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার সাথে সাথেই নেতা হওয়ার লক্ষ্যে জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য নেতাদের পাশাপাশি বেশকিছু বিতর্কিত নেতারাও শীর্ষ পদের আশায় ছুটছেন। যাদের অনেকের বিরুদ্ধে পতিতা ব্যবসা, মানব পাচার, অস্ত্র, পরিবেশ ধ্বংসসহ হত্যা আসামী ও চাঁদাবাজির সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা আ.লীগের আহ্বায়ক মাহমুদুল করিম মাদু ও যুগ্ন আহ্বায়ক জসিম প্যানেল সাংগঠনিক গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে নেতৃত্ব দখলে নিতে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলা লোকজনকে কাউন্সিল করাচ্ছেন। দলের সুবিধাভোগীরা তাদের টার্গেট। আর যারা খেয়ে না খেয়ে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে এমন ব্যক্তিদেরও কাউন্সিলর থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

পিএমখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সদর আহবায়ক মাদুর ডান হাত বলে খ্যাত এমএ কাদের ভোটারদের মসজিদে ঢুকিয়ে মাদুকে ভোট দিতে কোরআন ছুঁয়ে শপথ করানোরও অভিযোগ উঠেছে।

পিএম খালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নাছির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়নের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাউন্সিলর হওয়া আমার অধিকার। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আমাকে কাউন্সিলর থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি সাংগঠনিক টিম ও জেলা আওয়ামী লীগ বরাবরে অভিযোগ করেছি।

পিএমখালীর আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান বলেন, ১৯৯২-৯৩ সালে কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। এরপর জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ছিলাম। আওয়ামী লীগের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করে আসছি। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছে তারা কাউন্সিলর হতে পারেনি, আর যারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছিল তারা আজ কাউন্সিলর। আমার দোষ ছিল আমি মাহমুদুল করিম মাদুর লোক কাদেরের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলাম। তাই আমাকে সদর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কাউন্সিলর রাখা হয়নি।

ভারুয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আমান উল্লাহ বলেন, আমি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসাবে দীর্ঘদিন দায়ীত্ব পালন করেছি। আইন কলেজেও ছাত্রলীগের দায়ীত্বে ছিলাম। গেল সম্মেলন ও কাউন্সিলে ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের প্রার্থী হয়ে অল্প ভোটে হেরেছি। দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করা আমার মতো একজন মানুষকে বাদ দিয়ে তারা কাউন্সিলর তালিকা করেছে। এটা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি।

আমানের মতে, আ.লীগের অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মীকে কাউন্সিলর করা হয়নি।

সদরের ভারুয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাশেম অভিযোগ তুলে বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে খেয়ে না খেয়ে পড়ে আছি। দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এখনো করে যাচ্ছি। বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মাহমুদুল করিম মাদু সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে জেলা পরিষদের ভোটার। কিন্তু মাহমুদুল করিম মাদুকে ভোট দিতে না পারায় আমাকে কাউন্সিলর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব বিষয় অস্বীকার করে সদর আ’লীগের আহবায়ক মাহমুদুল করিম মাদু বলেন, কাকে কাউন্সিল করবে না করবে সেটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকের এখতিয়ার। এখানে আমাদের কোন হাত নেই। আমার জানামতে ত্যাগীরাই কাউন্সিলর তালিকায় এসেছে। তালিকা ইতোমধ্যে চুড়ান্ত হয়েছে। এরপরও কোন অভিযোগ থাকলে সাংগঠনিক টিমকে অভিযোগ দেয়া যায়।

এদিকে তৃণমূল ও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ১৯ নভেম্বরের সম্মেলন স্থগিত করে মাইম্যান হিসেবে যারা কাউন্সিলর হয়েছে তাদের বাদ দেয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি দলের জন্য নিবেদিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের কাউন্সিলর করে সম্মেলনের তারিখ পুনঃ ঘোষণার অনুরোধ করেন তারা। অন্যথায় সম্মেলনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্নের দায়িত্ব পাওয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিমের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট তাপস রক্ষিত বুধবার রাতে বলেন, সদরের পাঁচ ইউনিয়নের কাউন্সিলর তালিকা এসেছে- তবে, তা এখনো চুড়ান্ত অনুমোদন হয়নি। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ত্যাগীদের বাদ দেয়ার অভিযোগ এসেছে, সেসব বিষয়ে সাংগঠনিক টিম বৈঠকে বসেছে। আশাকরি সম্মেলনের আগেই সবকিছু ঠিক হয়ে নির্ধারিত দিনেই সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থলে দলের বিবদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। পরিচ্ছন্ন কাউন্সিলর তালিকা না হলে কক্সবাজার সদর উপজেলাতেও এমন ঘটনার আশঙ্কা করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: