প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

খায়রুল আলম রফিক

বিশেষ প্রতিনিধি

মেজর জিয়ার নির্দেশে জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ছক

   
প্রকাশিত: ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ, ২১ নভেম্বর ২০২২

আদালত চত্ত্বর থেকে থেকে পুলিশের চোখে স্প্রে দিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জেএমবি সদস্যকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর মোটরসাইকেলে করে জঙ্গিদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। জানা যায়,  নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে বড় ভাই ওরফে সাগর ওরফে মেজর জিয়ার  (চাকরিচ্যুত মেজর) নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশের ওপর হামলা করে আসামিদের ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো।

সম্প্রতি পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার দুই জঙ্গি মো. আরাফাত রহমান (২৪) ও মো. আ. সবুর ওরফে রাজ ওরফে সাদ ওরফে সুজনকে (২১) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই তথ্যই জান‌তে পে‌রে‌ছে পুলিশ। এছাড়া  জ‌ঙ্গি ছিনতাই‌য়ের ঘটনায় দা‌য়ের হওয়া মামলার মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে সাগর ওরফে বড় ভাই ওরফে মেজর জিয়ার (চাকরিচ্যুত মেজর) পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় আয়মান ওরফে মশিউর রহমান (৩৭), সাব্বিরুল হক চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে কনিক (২৪), তানভীর ওরফে সামশেদ মিয়া ওরফে সাইফুল ওরফে তুষার বিশ্বাস (২৬), রিয়াজুল ইসলাম ওরফে রিয়াজ ওরফে সুমন (২৬) ও মো. ওমর ফারুক ওরফে নোমান ওরফে আলী ওরফে সাদ (২৮) পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করে।

পরবর্তীতে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুটি মোটরসাইকেলে আনসার আল ইসলামের অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন সদস্য অবস্থান নেয়। এছাড়াও আদালতের আশপাশে অবস্থান করা অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জন আনসার আল ইসলামের সদস্য আদালতের মূল ফটকের সামনে অবস্থান করে। এরপর তারা পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এছাড়া  মামলার এজাহারে আরও জানানো হয়ে‌ছে, রোববার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে কাশিমপুর থেকে ১২ জন আসামিকে ঢাকার আদালতে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে আসা হয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার প্রসিকিউশন বিভাগে আসামিদের হাজিরা দেওয়ার জন্য সিজেএম আদালত ভবনের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইবুনাল ৮-এ নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার শুনানি শেষে জামিনে থাকা ১৩ নম্বর আসামি মো. ঈদী আমিন (২৭) ও ১৪ নম্বর আসামি মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি (২৪) আদালত থেকে বের হয়ে যায়। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে আদালতের মূল ফটকের সামনে পৌঁছানো মাত্র আগে থেকেই দুটি মোটরসাইকেলযোগে অজ্ঞাতনামা আনসার আল ইসলামের ৫-৬ জন সদস্য, আদালতের আশপাশে অবস্থানরত আনসার আল ইসলামের আরও ১০-১২ জন সদস্য হামলা করে।

প্রথমত তারা কনস্টেবল আজাদের হেফাজতে থাকা আসামি মইনুল হাসান শামিম ওরফে সিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান (২৪), মো. আবু সিদ্দিক সোহেল (৩৪) মো. আরাফাত রহমান (২৪) ও মো. আ. সবুর ওরফে রাজু ওরফে সাদ ওরফে সুজনকে (২১) ছিনিয়ে নিতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে আসামিদের মধ্যে কোনো একজন তার হাতে থাকা লোহা কাটার যন্ত্র দিয়ে কনস্টেবল আজাদের মুখে আঘাত করে।

ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের ডিসি মো. ফারুক হোসেন জানান, সন্ধ্যায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক জুলহাস উদ্দিন ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পলাতক ও অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেপ্তারে রাজধানীসহ দেশজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।

রেজানুল/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: