বড়াইগ্রামে শ্রম বিক্রির হাট

   
প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ণ, ২১ নভেম্বর ২০২২

মোতালেব হোসেন, বড়াইগ্রাম (নাটোর) থেকে: আবদুল মালেকের (৪৫) বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হরিণচড়া গ্রামে। হাতে একটি কাপড়ের পোঁটলা ও একটি কাস্তে। শুধু আবদুল মালেকই নন, তার আশপাশে দাঁড়িয়ে বা বসে আছেন এমন আরও শপাঁচেক মানুষ। তারা সবাই শ্রমিক। এসেছেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার রয়না ভরট হাটে কাজের সন্ধানে। এ ছাড়া এলাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীও লেখাপড়ার খরচ জোগাতে বাড়তি উপার্জনের আশায় এখানে আসেন।

প্রতিদিন ভোরে এখানে এভাবেই বসে শ্রম বিক্রির হাট বা স্থানীয় ভাষায় কামলার হাট। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গৃহস্থরা হাটে এসে সরাসরি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে, দরদাম করে কাজ অনুযায়ী প্রয়োজনমতো শ্রমিক নিয়ে যান। এটি রয়না ভরট শ্রমিকের হাটের প্রতিদিনের দৃশ্য।

রয়না ভরটে প্রায় দেড় যুগ ধরে আমন ধান কাটা, রসুন রোপণ ও তোলার সময়ে প্রতিদিনই এমন শ্রমের হাট বসে। নাটোর ছাড়াও পাশের সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ হাটে শ্রম বিক্রি করতে আসেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক চালু হওয়ার পর থেকে রসুনপ্রধান এ এলাকায় এ মৌসুমে প্রতিদিনই কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে বসে এসব শ্রম বিক্রির হাট। বর্তমানে এ এলাকায় আমন ধান কাটা ও রসুন বোনার কাজ চলছে পুরোদমে। তাই এলাকায় শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থেকে আসা শ্রমিক আবদুল হাকিম (৬২) জানান, এলাকায় কাজ নেই। তাই ভোর ৪টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে ট্রাকে করে এখানে এসেছি। কিন্তু বয়স বেশি হওয়ায় তাকে সহজে কেউ কাজে নিতে চায় না বলে জানান।

রয়না ভরট গ্রামের আবদুল ওয়াহাব জানান, কাজভেদে মজুরি সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকাও রয়েছে। কিন্তু শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি কাজ করতে পারেন না বলে তারা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার বেশি মজুরি পান না।

বুধবার কাজের সন্ধানে এ হাটে আসা সিরাজগঞ্জের তাড়াশের শ্রমিক আবদুর রহমান জানান, অচেনা জায়গায় এসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজ খোঁজা সম্ভব নয়। তাই এখানে শ্রমিকের হাট থাকায় সুবিধা হয়েছে।

বড়াইগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মমিন আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজের মৌসুমে ভ্রাম্যমাণ শ্রমিকের হাট বসে। রয়না ভরটসহ আশপাশের কয়েকটি স্থানে শ্রম বিক্রির এমন হাট থাকায় গৃহস্থরা সহজে শ্রমিক পাচ্ছেন, আবার শ্রমিকরাও সহজে কাজ খুঁজে পাচ্ছে। এতে সবারই সুবিধা হয়েছে।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: