প্রচ্ছদ / খোলা কলাম / বিস্তারিত

‘আগের দিন ত আর নাই, অহন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে’

   
প্রকাশিত: ১:৩৩ অপরাহ্ণ, ২২ নভেম্বর ২০২২

তুহিন ভূইয়া, স্টাফ রিপোর্টার: সবুরা বেগম (৬০)। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ তিতুমীর কলেজের প্রধান ফটকের সামনে বাহারি রঙের চুরি বিক্রি করে আসছেন। এখান থেকে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে তার সংসার। স্বামী তেমন কোনো কাজ করতে না পারায় সবুরা বেগমের আয়-রোজগারে উপর নির্ভর করে পরিবার।

দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ায় এখন কেমন চলছে দিনকাল জানতে চাইলে সবুরা বেগম কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন মামা এখন ত আর আগের দিন নাই। সব জিনিস পত্রের দাম বাড়ছে। দাম বাড়ার কারণে এখন চুরি তেমন বিক্রি হয় না। যা বিক্রি হয় তা দিয়ে কোনো মতে সংসার চালানো যায়।

সবুরা বলেন, আগে দিনে ২ হাজার ২৫শ টাকা বিক্রি হতো। এখন ১ হাজার টাকা বিক্রিও হয় না।যে চুরি ৪০ টাকা বিক্রি করতাম, এখন তা ৪০ টাকা দিয়ে কিনি। দাম বাড়ায় মেয়েরা চুরি কিনতে চায় না। তারপরেও আল্লাহ চালায়। কোনো রকমের চলতে পারি।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী নাদিরা বলেন, অনেক দিন যাবৎ দেখি খালা আমাদের কলেজের সামনে চুরি বিক্রি করে। খালার কাছ থেকে আগে চুরি কিনতাম। এখন তেমন ভাবে কেনা হয় না। এক দিকে দ্রব্যেমূল্যের দাম বেশি, অন্য দিকে সব কিছু মিলিয়ে আমাদের খরচ বেড়ে গেছে। যার কারণে আগের মতো শখ থাকলেও সব খরচ মিটিয়ে হাতে টাকা না থাকার কারণে চুরি বা অন্যান জিনিস পত্র ও তেমন ভাবে কেনা হয় না।

জেসমিন আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বাসা থেকে টাকা এনে পড়াশোনার খরচ চালাই। আগের তুলনাই জিনিস পত্রের দাম বেড়েছে ঠিকই, তবে বাসা থেকে টাকা বাড়িয়ে পাঠায় না। যার ফলে নিজের খবর চালাতে কষ্ট হয়। এর জন্য আগের মতো চুরি-কানের দুল কেনা হয় না।

এমন হাজারও সবুরা বেগমদের দেখা যায় রাজধানীর অলিতে-গলিতে। যারা কিনা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে চুরি, খেলনা, খাবার বিক্রি করে নিজেদের জীবন বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে দুবেলা খেয়ে না খেয়েই চলে যাচ্ছে সবুরাদের জীবন।

প্রসঙ্গত, সবুরা বেগমের এলাকার বাড়ি জামালপুরে। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজধাণীতে চুরি বিক্রি করছেন। এর মধ্যে ১০ বছর যাবৎ নিয়মিত চুরির ডালা নিয়ে বসছেন তিতুমীর কলেজের প্রধাণ ফটকের সামনে। পাঁচ মেয়ে, এক ছেলে ও স্বামী নিয়ে তার সংসার।এর ভিতর চার মেয়েকেই বিয়ে দিয়েছেন চুরি বিক্রির আয় দিয়ে।

তুহিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: