প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

সাজ্জাদুল আলম শাওন

জামালপুর প্রতিনিধি

কৃষকের স্বপ্ন পূরণের দিন নবান্ন উৎসব

   
প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ, ২৩ নভেম্বর ২০২২

“অগ্রহায়ন মাস” কৃষকের মাঝে আনন্দের বার্তা নিয়ে আগমন ঘটে। এমাসে সোনালী ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত থাকে গ্রামীণ কৃষক। কৃষকের নানান স্বপ্ন থাকে এ মাসকে ঘিরেই। গ্রাম বাংলায় এসময়কে নবান্ন উৎসব হিসাবে ধরা হয়। দেশের প্রাচীনতম উৎসব গুলোর একটি হচ্ছে “নবান্ন উৎসব”। অগ্রাহায়নের প্রথম দিনটিই বাংলাদেশের নবান্ন যাপনের দিন হিসেবে পরিচিত। এইটাই কৃষকের স্বপ্ন পূরণের দিন। হাজারো স্বপ্ন থাকে এফসল ঘিরে।

নবান্ন মানেই মাঠে মাঠে সোনালী ধানের সমারোহ, বাতাসে দোল খায় কৃষকের স্বপ্ন। নতুন আমন ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণ। ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম চারিদিকে। ফলন যেমনই হোক, কৃষকের মুখে ধানকাটার গান মনে করিয়ে দেয় নবান্ন উৎসবের কথা। নবান্ন হচ্ছে হেমন্তের প্রাণ।

নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। নতুন ধান কাটা আর সেই ধানের প্রথম অন্ন খাওয়াকে কেন্দ্র করে পালিত হয় নবান্ন উৎসব। হেমন্ত এলেই দিগন্তজোড়া প্রকৃতি ছেয়ে যায় সোনালি ধানের ক্ষেত। এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের বিভিন্ন মাঠে। বিস্তৃত মাঠের দিকে তাকালেই ভরে উঠে মন। যেন ক্ষুদ্র সোনার দানা গাছের পাতায় পাতায় ঝুলে আছে। এই সোনালী ফসল কিছুদিন আগেই সবুজের মায়া ছড়িয়েছে। সবুজের পরে আজ সোনালী রূপ ধারণ করেন। প্রকৃতি যেন তার আপন রূপে ফিরে গিয়েছে। চারদিকে শীতের হওয়া লেগেছে। হিম শীতল আবহাওয়ায় উপজেলার মাঠে মাঠে বর্ণিল আয়োজনে চলছে ধান কাটার মহোৎসব। বাড়িতে বাড়িতে আসছে নতুন ধান। প্রায় প্রতিটি বাড়ির উঠানে নতুন ধানের স্তূপ। ব্যস্ত কৃষাণীরাও।

উপজেলার পৌরসভা, ডাংধরা, চর আমখাওয়া, পাররামরামপুর, হাতীভাঙ্গা, বাহাদুরাবাদ, চিকাজানী, চুকাইবাড়ী ও দেওয়ানগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে বিস্তৃত সোনালি ফসল চোখে পড়ে। সবুজে ঘেরা মাঠ কিছুদিনের ব্যবধানে সোনালি রূপ ধারণ করেছে। এই তো কয়েকদিন আগেও মাঠে মাঠে সবুজ ফসলে ভরে ছিল। আজ তা কৃষকের স্বপ্নে রূপান্তরিত হয়েছে। কৃষকের এই উৎসব সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ক্ষণিকের আনন্দ বয়ে তুলে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের অথ্য অনুয়ায়ী, জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবছর রোপা আমন ধান বেশি উৎপাদন হয়েছে। উপজেলায় জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল ৮ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে চাষ হয় ৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। ২০ শতাংশ জমিতে ধান কাটা হয়েছে। বাকি জমিতে ধান কাটা এখনও বাকি রয়েছে।

বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কৃষক বাহাদুর, রশিদ, হাপাল বলেন, নতুন ফসল ঘরে তুলার সাথে সাথে আমাদের পরিবারের সকল দুঃখ কষ্ট লাঘব হয়ে শুরু হয়। যেদিন জমিতে ধান বুনি সেদিন থেকেই আমাদের ছোট ছোট স্বপ্ন বুনতে শুরু করি। ধানের চারা বড় হওয়ার সাথে সাথে আমাদের স্বপ্নও বড় হতে থাকে। ফসলের সবুজ বর্ণ যখন সোনালি বর্ণ ধারণ করে তখন আমাদের স্বপ্নের পূর্ণতা পায়। এবার ফসল আল্লাহ্ রহমতে ভালই ফলন হয়েছে। আশাকরছি ভালো ধান ঘরে তুলতে পারবো। ঘরের বউরা নতুন ধানের চাল দিয়ে নানা রকমের খাবার ও পিঠা তৈরি করে থাকে। এসময় গ্রামে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার কৃষক আবু সালাম বলেন, আমাদের কষ্ট তখনই লাঘব হয়, যখন ফসলে সোনালি রূপ ধারণ করে। প্রতিবছর এই দিনে আমাদের মেয়ের জামাই আসে। নতুন ধানের আটা দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করি। এটাই আমাদের দেশীয় রীতি। নতুন চালের তৈরি পায়েশ-পোলাও, পিঠা-পুলিসহ রকমারি খাদ্য-সামগ্রী পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি পালন করা হয় সামাজিকভাবে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী নানা আচার-অনুষ্ঠান। ধর্মীয় রীতি-নীতি অনুযায়ী এসব আচার- আনুষ্ঠানিকতায় বৈচিত্র রয়েছে। মুসলিম কৃষক সমাজে নতুন ফসল ঘরে ওঠার জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্য বাড়ি বাড়ি কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, মসজিদ ও দরগায় শিরনির আযোজন করা হয়।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল হাসনাত রাজু বলেন, মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিচক্ষণ’র কারণে কৃষকরা সঠিক পরামর্শ পেয়ে থাকে। সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শের কারণে কৃষকের ফসলে ফলন ভালো হয়। পোকামাকড় রুধে সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই ফসলের ক্ষতির পরিমাণ কম হয়।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: