প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

শরীফের সেই অনুসন্ধান সত্যতা পেয়েছে দুদক

   
প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, ২৩ নভেম্বর ২০২২

ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ, চট্টগ্রাম থেকে: কক্সবাজারের কয়েকটি মেগা প্রকল্পের দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমে সরকারি কর্মকর্তা, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা ও একটি দালাল চক্রের রোষানলে পড়ে তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা দুদকের সাবেক উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে প্রথমে বদলি এবং পরে চাকরিচ্যুত করা হয়। তদন্তে অভিযুক্তদের নাম না দেওয়ার জন্য চাপও দেয়া হয়েছিল শরীফকে। কিন্তু দুর্নীতির প্রমাণ থাকায় শরীফ তাতে সম্মত হয়নি। এক পর্যায়ে শরীফকে হত্যাসহ জীবন নাশের হুমকি দেন অভিযুক্তরা।

এদিকে দুদক উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন চাকরি হারানো পর তার পরিবর্তে পুনঃঅনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আলী আকবরকে। দীর্রদিন পর একটি প্রকল্পের অনুসন্ধান শেষে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এ কর্মকর্তা। তাতে মিলেছে দুর্নীতির সত্যতা। দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। কমিশনের অনুমোদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

তথ্য বলছে, কক্সবাজারে পানি শোধনাগার প্রকল্পসহ তিন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়েই অনুসন্ধান করছিলেন দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন। তদন্তে সরকারী টাকা আত্মসাৎয়ে সম্পৃক্ততা পায় জনপ্রতিনিধি, সরকারী আমলাসহ অনেকের। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন চেয়ে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন শরীফ। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সেই প্রতিবেদন বাতিল করে পুনরায় অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয় তখন। এরপরই চাকরিচ্যুত হন শরীফ উদ্দিন।

দুদক কর্মকর্তা আলী আকবরের জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে কক্সবাজার পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সরওয়ার কামাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় কক্সবাজার পানি শোধনাগার প্রকল্পের জন্য বাঁকখালী নদীর উত্তর পাড়ে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা মূল্যের জমি বাছাই করেন। তিনি দায়িত্ব থেকে চলে যাওয়ার পর মেয়রের দায়িত্ব পান মুজিবুর রহমান। আগের বাছাই করা জমি বাদ দিয়ে বাঁকখালী নদীর দক্ষিণ পাড়ে ৩৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা দামের জমি বাছাই করেন মুজিবুর।

সেটার বেশিরভাগই ছিল সরকারি রিসিভারে থাকা জমি। মেয়র কৌশলে জমি অধিগ্রহণের আগে রিসিভারকৃত জমির ১ দশমিক ৭২ একর তার স্ত্রী ও শ্যালকের নামে বক্তিগত জমিতে রূপান্তর করেন। এ কাজে মেয়রকে সহায়তা করেন কক্সবাজার সদরের সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার মোক্তারসহ আরও দুজন সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত জসিম উদ্দিন গং ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ কোটি ২২ লাখ চার হাজার ১৮৭ টাকা পান, সেই টাকা থেকে কমিশন বাবদ এক কোটি ৪৮ লাখ টাকা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নিয়েছেন মেয়র মুজিবুর রহমান। এ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকার চেক দেন স্ত্রীর ভাই মিজানুর রহমানকে। দুদকের অনুসন্ধানে দালিলিক ও সাক্ষ্যপ্রমাণ দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৩৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলার সুপারিশ করা হয় অনুসন্ধান প্রতিবেদনে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: