এম,এ আহমদ আজাদ

নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

টাঙ্গুয়া হাওরে জীব বৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে

   
প্রকাশিত: ৯:২৯ অপরাহ্ণ, ২৬ নভেম্বর ২০২২

বাংলাদেশে টাঙ্গুয়া হাওরে জীব বৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে। প্রতিদিন উজার করা হচ্ছে সবুজ বৃক্ষ। বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট মাদার ফিশারিজ খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য টাঙ্গুয়ার হাওরের জীব বৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে। হাওর থেকে প্রতিনিয়ত জ্বালানি হিসেবে অবাধে কেটে নেয়া হচ্ছে নলখাগড়া, চাইল্যাবন, হিজল করচ গাছসহ ডালপালা। উজাড় করা হচ্ছে ঘন সবুজ বন।

বিশাল টাঙ্গুয়া হাওরের জলারাশির চারদিকে হিজল-করচ নলখাগড়া, চাইল্যাবনসহ বিভিন্ন জাতের গাছ গাছালিতে সমৃদ্ধ অতিথি পাখিদের অভয়াশ্রম। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কোলঘেঁষা সবুজের সমারোহে বেষ্টিত অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর টাঙ্গুয়ার হাওরের জীব বৈচিত্র্য এখন অনেকটাই তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারানোর পাশাপাশি জীব বৈচিত্র্য ক্রমশ হুমকির মুখে পড়ছে। ফলে বিপন্ন হচ্ছে হাওর, বিপন্ন হচ্ছে টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ। এক শ্রেণির বনখেকো চক্রের কবলে ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে টাঙ্গুয়ার হাওরের হিজল করচসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি।

সূত্রে জানা যায়, ৯০ দশকের শুরুতে পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার বিষয়টি মিডিয়ায় উঠে আসলে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশের ৮টি স্থানকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে পরিবেশ সংরক্ষণের দাবি উঠানো হয়। তখন বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের সঙ্গে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, যশোরের মাঠচান্দ, কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ও সোনাদিয়া দ্বীপ টেকনাফের উপকূলীয় অঞ্চল, সিলেটের কুলাউড়ার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও হাকালুকি হাওর পরিবেশের জন্য স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয় এবং এই ৮টি স্থানকে ৯৭ সালে ২৮শে আগস্ট জারিকৃত পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা কার্যকর হয়।

সারা বিশ্বে রামসার আওতাভুক্ত এলাকা হচ্ছে ১০৩১টি এরমধ্যে টাঙ্গুয়ার হাওর একটি অন্যতম এলাকা। রামসার কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি ঘটে ১৯৯২ সালের মে মাসে। পরবর্তীকালে রামসার সাইট হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায় সুন্দরবন ও টাঙ্গুয়ার হাওর। রামসার ঘোষণার পর টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রচলিত ইজারা ব্যবস্থা বন্ধ এবং কর্তৃত্ব পরিবর্তিত হয়। টাঙ্গুয়ার হাওর একটি বৃহৎ জলমহাল হিসেবে কর্তৃত্ব ছিল শুধুমাত্র ভূমি মন্ত্রণালয়ের হাতে। এখন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের হাতে। রামসার ঘোষণার পর টাঙ্গুয়ার হাওরের জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের দিক নিয়েও নতুন সম্ভাবনা জেগে ওঠে।

সরেজমিন টাঙ্গুয়ার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, হাওরপাড়ের কিছু মানুষ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে নলখাগড়া, বনতুলসী, চাইল্যাবন, হিজল করচ গাছের ডালপালা ছোট ছোট নৌকা বোঝাই করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে যে যার মতো করে। টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মনির হোসেন বলেন, জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য কিছু লোক বনতুলসী, চাইল্যাবন ও নলখাগড়া কেটে নিয়ে যায়।

এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তো আপনাদের? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কি করবো, এগুলো তো কমিউনিটি গার্ড দেখবে। আর বিশেষ করে আনসাররা তো সারাদিন ক্যাম্পে বসে থাকে। আনসাররা তৎপরতা বাড়ালে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
টাঙ্গুয়া হাওর পাড়ের তাহিরপুর গ্রামের আব্দুল হালিম বলেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসাররা নিজেদের পকেট ভারি করতে মাছ ধরা ও গাছ কাটার সুযোগ দিচ্ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিপন্ন হতে পারে হাওরের পরিবেশ ও জনবসতি। নলখাগড়া চাইল্যাবন হিজল করচ গাছের ডালপালাগুলো কেটে গোলাবাড়ি ও মন্দিয়াতা ক্যাম্পের সম্মুখ দিয়ে নিয়ে যায়। অথচ আনসাররা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা গ্রামের সানজু মিয়া বলেন, গত দুই দশক ধরে টাঙ্গুয়ার হাওরে গাছ কাটা চলছে। এখন হাওরে গাছপালা আগের মতো নেই। তিনি আরো জানান, প্রতিদিনই বনখেকোরা প্রকাশ্যে নৌকা বোঝাই করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে নলখাগড়া, চাইল্যাবন ও হিজলবন। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, হাওরপাড়ের লোকজনদের জনসচেতনতামূলক কর্মশালার ব্যবস্থা করা হবে। যাতে তারা নিজ দায়িত্ব থেকেই টাঙ্গুয়া হাওর সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করে থাকে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী বাবুল বলেন, যারা টাঙ্গুয়ার হাওরের নলখাগড়া, চাইল্যাবন, হিজল করচ গাছের ডালপালা কেটে নিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: