প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

শাহীন মাহমুদ রাসেল

কক্সবাজার প্রতিনিধি

গভীর রাতে ইউএনওর অভিযান: মাটি ভর্তি ডাম্পার জব্দ, ড্রাইভারের কারাদণ্ড

   
প্রকাশিত: ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ, ২৭ নভেম্বর ২০২২

বসতভিটার কিছু দূরেই ফসলি জমি। পাশে বাঁকখালী নদী। নদীর দুই পাড়ের মাঠে সবজির সমারোহ। চাষ করা হয়েছে আলু, মরিচ ও বেগুনসহ বিভিন্ন জাতের সবজি। এসব খেতের পাশেই অনেক জমি ৮-১০ ফুট নিচু। সেখান থেকে স্কেবেটর দিয়ে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভরাটের কাজে। সন্ধ্যা নামার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত চলে এ মাটি কাটার উৎসব। এই চিত্র কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দরগাহপাড়া পূর্ব মুক্তারকূল এলাকার।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, কৃষিজমি সুরক্ষা আইনের তোয়াক্কা না করে বাঁকখালী নদীর খাস এবং আশেপাশের ফসলি জমির মাটি বিক্রিতে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা ফসলি জমি, বাঁকখালী নদীর পাড় থেকে মাটি ও বালু কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে আসছে কয়েক বছর ধরে। গ্রামের নদীর পাড়ের অন্ততপক্ষে ৫০ একর জমি রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় কয়েক একর জমি থেকে বালু মাটি কেটে জলাশয় করা হয়েছে। এর ফলে ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ, হুমকিতে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ—প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে খাস জমির মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা প্রভাবশালী একটি মহল। পাশের ফসলী জমির কয়েকজন মালিককে অল্প কিছু টাকা নিয়ে জোরজবরদস্তি করে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে মারধর করছে।

তারা বলছেন, জোরপূর্বক ফসলি জমি জমি থেকে গভীরভাবে খনন করে মাটি ও বালু উত্তোলন করায় নদীর পাড়সহ আশপাশের জমি ভেঙে পড়ছে। তারা সবসময় আতঙ্কে থাকেন কখন, কার জমি ভেঙে পাশের গর্তে পড়ে।

এমতাবস্থায় অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে গভীর রাতে অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। এসময় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ৩টি ডাম্পার ট্রাক ও ১ টি স্কেবেটর জব্দ করে মাটি কাটার সাথে জড়িত একজনকে তিন দিনের সাজা দেওয়া হয়।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১ টা থেকে রাত সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাকারিয়ার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ইউএনও বলেন, ‘ঝিলংজার দরগাহপাড়া পূর্ব মুক্তারকুল এলাকায় নদী তীরবর্তী খাস জমি থেকে গভীর রাতে অবৈধভাবে মাটি কাটা অবস্থায় ড্রাইভারসহ একটি ডাম্পার আটক করা হয়। আটককৃত ডাম্পারটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। যার মামলা নম্বর ৫৫/২০২২। আটককৃত ড্রাইভারকে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া একটি স্কেবেটর, দুটো ডাম্পারের ড্রাইভার ও সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ায় ডাম্পারসহ স্কেবেটরটি স্থানীয় মেম্বারের জিম্মায় দেয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধভাবে খাস ও কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বিষয়গুলো নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে জানানো হয়েছে।’

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: