প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মো: একরামুল ইসলাম

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি

ম্যানেজিং কমিটির দন্ধে ভেঙে যাচ্ছে পীরগাছার দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষাব্যাবস্থা

   
প্রকাশিত: ১১:৪৭ অপরাহ্ণ, ২৮ নভেম্বর ২০২২

রংপুরের পীরগাছায় কৈকুড়ী ইউনিয়নের সুবিদ দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি নেই প্রায় ৭বছর থেকে। স্থানীয়দের কোন্দল ও প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে মাদ্রাসাটি। নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটিতে আসতে না পারায় ওই এলাকার মজিবর রহমান ও মতিয়ার রহমান মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে ঠুনকো অভিযোগ দিয়ে কমিটি গঠন স্থগিত করেন। কমিটি গঠন না হওয়ারজন্য তারা এ বিষয়ে ২০২১ সালে মামলা দিয়েছে বলে জানান ওই মাদ্রাসার সুপার আনোয়ারুল ইসলাম। যার মামলা নম্বর-১৭৪/২৭১।

এতেও তারা ক্ষান্ত না হয়ে ইদানিংবিভিন্ন গণমাধ্যমে সুবিদ দাখিল মাদ্রাসার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেসংবাদ পরিবেশন করান। অথচ মাদ্রাসাটি ১৯৮৫ সাল থেকে সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে বলে জানান ওই মাদ্রাসার প্রবীণ শিক্ষক ইউনুস আলী বসুনিয়া। তিনি আরও জানান, ২০১৩ সালের কমিটির সভাপতি ৪- ৫টা নিয়োগের সব টাকা আত্মসাত করার কারণে মাদ্রাসার কোন অবকাঠামো উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। সরকারি কোন বরাদ্দও নেই। আমাদের শিক্ষকদের টাকা দিয়ে টিনের চালা দিয়েছি।

মাদ্রাসায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বার্ষিক পরীক্ষায় ৮০জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। সুপার ১জন, সহ-সুপার ১জন, সাধারণ শিক্ষক ১১জন, অফিস সহকারী ১জন, দপ্তরী ১জন ও নৈশপ্রহরী রয়েছে ১জন। এসময় ওই মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার ফলাফল খুঁজে দেখা গেল ২০২০ সালের ১৫জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪জন পাস করেছে। ২০২১ সালের ২২জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১জন পাস করেছে। সদ্য প্রকাশিত দাখিল পরীক্ষায় ২০২২ সালের ১৩জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১জন পাস করেছে। মাদ্রাসার সহ-সুপার আ হ ম ফখরুল ইসলাম, শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন ও কোরবান আলী জানান, মাদ্রাসার রেজাল্ট বরাবরে ভালো। ২০০শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০০- ১২০জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকেন। তবে সাংবাদিকরা সঠিক তথ্য তুলে না ধরে সংবাদ পরিবেশন করেছেন।

মাদ্রাসা সুপার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, স্থানীয় কোন্দলের কারণে বারবার ভেঙে যাচ্ছে শিক্ষাব্যাবস্থা। ২০১৫সাল থেকে কমিটি গঠন করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছি। উল্টো কমিটি গঠন না হওয়ার জন্য তারা মামলা দিয়েছে। এর ঘানি টানতে  হচ্ছে  আমাকে। তিনি আরও জানান, কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয়রা
মাদ্রাসায় তাদের ছেলেমেয়েদের ভর্তি করান না। এমনকি পরীক্ষায় সময় পরীক্ষার্থীদের আসতে দেয়না। কৈকুড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুর আলম মিয়া জানান, স্থানীয়দের কারণে মাদ্রাসার উন্নয়ন হচ্ছে  না। আমি নিজেই মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য এক লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছি।

রেজানুল/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: