অর্থের বিনিময়ে রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর ঘটনা আহত করে: কাজী হায়াৎ

   
প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ণ, ১৬ ডিসেম্বর ২০২২

ছবি - সংগৃহীত

আশরাফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের গুণী নির্মাতাদের অন্যতম কাজী হায়াৎ। পরিচালক ও অভিনেতা হিসেবেই চেনেন-জানেন তার দর্শকরা। তবে তিনি শুধু অভিনয়ে সীমাবদ্ধ থাকেননি, ১৯৭১ সালে দেশের হয়ে করেছেন যুদ্ধ। যদিও রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই স্বীকৃতি এখনো মিলেনি। আম্মাজান ছবির মাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন এই নির্মাতা। পাঁচ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী এই অভিনেতা বিডি২৪লাইভের আজকের ‘টুকটাক গল্প..’ অনুষ্ঠানে কথা বলছেন।

* কেমন আছেন?

** আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। তবে আমার শরীরটা খুব একটা ভালো নেই।

* আজ বিজয়ের ৫২ বছর। আপনার প্রত্যাশা ও অপ্রাপ্তির জায়গাটা কেমন?

** একটা উন্নত জাতি হওয়ার জন্য আমাদের প্রত্যাশার জায়গাটা অনেক। আমরা অনেক সময় পেয়েছিলাম কিন্তু হতে পারিনি। দুঃখজনক হলেও এই কথাটা বলতে হচ্ছে যে, বিজয়ের এত বছর পরেও দেশে স্বাধীনতার পক্ষ বিপক্ষ বলে রাজনীতি হয়। মুক্তির এত দিন পরেও এই বিষয়টা মিমাংসা হলো না। যে দলটি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো সেই দলটির ক্ষমতা দখল ও বিভিন্ন বিষয়ে তাদের উত্থান আমার মনে হয় ১৯৭১ সালে যত ভাগ ছিলো তার থেকেও বেড়ে গেলো।  আমার মনে হয় এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের গবেষণা করা উচিৎ। ক্ষমতাসীন দল সরকারেরও এটা নিয়ে ভাবা উচিৎ কেন এমনটি হলো।

* আপনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন, এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাননি। এর পিছনে আপনি কোন ষড়যন্ত্র দেখছেন?

** এটার পিছনে ষড়যন্ত্র আছে বলে আমি মনে করিনা। তবে পদক্ষেপগুলো ভুল। যেমন মুক্তিযুদ্ধের সময় কতজন রাজাকার কমিটিতে ছিলো। কতজন লোক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলো এটা এখনো খুঁজে বের করা হয়নি। যদিও এটা খুজে বের করা খুব সহজ। একেকটি এলাকায় সরকারিভাবে টিম করে দিলে সেখানকার লোকেদের সরজমিনে সাক্ষি গ্রহণ করে তাদের নামের লিস্ট করলে এখনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা বের করা সম্ভব।

** কিন্তু কিভাবে এই যে অনলাইন করে তারপর একদল কমিটি যায় থানায়। সেখানে গিয়ে তাদের দুর্নীতির কথাও শোনা যায়। অনেক রাজাকারকে তারা অর্থের বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে দেয়। এই সব ঘটনা খুব আহত করে। এই সিস্টেম থাকা উচিত গিলো না। সিস্টেম থাকা উচিত ছিলো স্থানীয় জনগণ ও সরকারের একটি সুদক্ষ কমিটি যারা থাকবে সৎ তারা সঠিক তালিকা অনুসন্ধান করবে। এই কাজটি এখনি করা উচিত বলে আমি মনে করি কারণ পরে আর সবাইকে খুজে পাওয়া যাবে না।

* বাংলা সিনেমা দেখে দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কেন?

** সিনেমা নির্মাণে পুঁজি বিনিয়োগ কম হচ্ছে। কারণ যে অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে সেটা ফিরে আসছে না। আর পুঁজি ফিরে না আসার কারণ হলে দর্শক যাচ্ছে না। অবশ্য মান সম্মত সিনেমা না হওয়ার কারনে দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সত্যি কথা বলতে পুঁজি বিনিয়োগ না করলে ভালো সিনেমা নির্মাণ করা সম্ভব নয়। সরকার অবশ্য সিনেমায় পুঁজি বিনিয়োগ করছে, এটা সঠিক ভাবে বন্টন করা হলে ভালো সিনেমা করা সম্ভব হতো। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না।

* দীর্ঘ ২২ বছর হলে গিয়ে কোন সিনেমা দেখেননি, কিন্তু কেন?

** কোনো সিনেমা আমাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। সে কারণে আমি সিনেমা হলে যায়নি। আসলে বয়সের সাথে সাথে মানুষের পছন্দ পরিবর্তন হতে থাকে। যেমন ছোট বেলায় ডাং গুলী খেলা, ঘুড়ী ওড়ানো, সাইকেলের রিং চালানো, মার্বেল ও কড়ি খেলা খুব ভালো লাগতো। এখন সেগুলো মনে হলে হাসি পায়। আমি সেই বিনোদনে ব্যাস্ত থাকতাম সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত। সেই সব বিনোদন গুলো জীবন থেকে হারিয়ে গেছে।

** ছোট বেলায় সিনেমা দেখতাম সেটা আবার খাতায় ঘর করে লিখে রাখতাম। কোন হলে দেখলাম, কয়টা সিনেমা দেখলাম, শিল্পদের নাম কি তখন খুব ভালো লাগতো। সেই জীবনটা এখন আর নেই। এখন বিনোদনের ধারা পরিবর্তন হয়েছে। এখন ভালো লাগে টকশো, ভালো লাগে রাজনৈতিক আলোচনা, দেশের কল্যাণের কথা ভালো লাগে।

* সিনেমায় প্রয়াত অভিনেতা মান্নাকে কতটা মিস করেন?

** মান্না একটা সিনেমার নিবেদীত প্রাণ ছিলো। সব সময় ভালো করার চেষ্টা করতো। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত শেখার চেষ্টা করেছে। তাকে দেখলে মনে হতো না সে সিনেমার অনেক কিছু জেনে ফেলেছে। তার মধ্যে কোনো অহংকার ছিলো না। তবে এখন সেটা লক্ষ্য করা যায়না। এখন একটা দুইটা ছবি করে এমন ভাব করে যেন সব কিছু জেনে ফেলেছে। তবে আমার মনে হয় যারা সিনেমায় নতুন আসছে তারা যদি মান্নাকে অনুসরণ করে তাহলে ভালো কিছুই হবে।

** সত্যি কথা বলতে মান্নার মাঝে একটা ক্ষুধা ছিলো। মৃত্যুর আগে মান্না আমাকে বলতো হায়াৎ ভাই আমি নির্মাতা আমজাদ ভাইয়ের একটা ছবিতে কাজ করতে চাই। আপনি আমার সুযোগ করে দেন। প্রয়োজনে আমি কোনো টাকা নিবো না। তারপরও আমাকে একটা সুযোগ করে দেন। এখন আর এগুলো দেখা যায় না। যা সিনেমার জন্য দুঃখজনক।

আশরাফুল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: