প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

আবদুল কাদির

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ঐতিহ্যবাহী হুম গুটি খেলা ফুলবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত

   
প্রকাশিত: ১০:৩১ অপরাহ্ণ, ১৪ জানুয়ারি ২০২৩

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় আড়াইশ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী হুমগুটি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কয়েক হাজার খেলোয়ার এই খেলায় অংশ নেয়। খেলা দেখতে কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম হয়।

শনিবার (১৪ জানুয়ারী) বিকাল তিনটার দিকে উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের তালুক-পরগনা সীমানায় এই খেলা শুরু হয়েছে। জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার জমিদার রাজা শশীকান্ত এবং ত্রিশালের বৈলরের জমিদার হেমচন্দ্র রায়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জমির বিরোধ মীমাংসার জন্য বড়ই আটা গ্রামের তালুক-পরগনা সীমানায় গুটি খেলার আয়োজন করা হয়। খেলার শর্ত ছিল-গুটি যাদের সীমানার দিকে বেশী নিয়ে গুম করতে পারবে, তারা হবেন তালুক। পরাজিত দল হবে পরগনা। সে সময় মুক্তাগাছার জমিদার বিজয়ী হন এবং তাদের আওতাভুক্ত স্থানকে তালুক নামকরণ করা হয়। তবে হার-জিৎ থাকলেও খেলা থেকে জনমনে যে আকর্ষণ সৃষ্টি হয়েছে,তা কিন্তু থেমে থাকেনি। আজও তা ধারণ করে আসছে সেখানকার মানুষ।

খেলার তারিখ নির্ধারণ করা হয় বাংলা সাল হিসেব করে। পৌষের শেষদিন খেলার নির্ধারিত তারিখ। উপজেলার লক্ষ্মীপুর,বড়ই আটা, বাটিপাড়া,বালাশ্বর, চরকালিবাজাইল,তেলিগ্রাম, সাড়ুটিয়া,ইচাইল,কাতলাসেন-সহ অন্তত ১৫-২০টি গ্রামের মানুষ দিনটির জন্য অপেক্ষা করে। ঘরে ঘরে চলে নতুন আমন ধানের পিঠা-পুলির উৎসব। পিঠার মধ্যে অন্যতম নুন-মরিচের পিঠা, গুটা পিঠা, তেলের পিঠা, দুধ চিতই পিঠা, কলার পিঠা। গ্রামগুলোতে খেলার কয়েকদিন আগেই আসতে থাকে দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজন।

খেলা দেখতে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম জানান, আড়াইশ বছরের অধিক সময়ের ঐতিহ্যবাহী গুটি খেলার শুরু করার একটি নির্দিষ্ট সময় থাকলে শেষ হওয়ার কোন সময় থাকে না। তবে দুই তিন দিন খেলা একটানা চলেছিল।

স্থানীয় হযরত আলী বলেন, আমি নিজে গুটি খেলেছি। এখন বয়সের কারনে খেলি না। এটি আমাদের ফুলবাড়ীয়ার ঐতিহ্য। খেলাটি এখনো বেঁচে আছে বিলুপ্ত হয় নাই ভাবতে অবাক লাগে।আজকের খেলা গভীর রাতে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হুমগুটি মিলন মেলার সভাপতি এবি সিদ্দিক বলেন, বিকাল তিনটার দিকে খেলা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে খেলোয়াড়রা আসছে। গুটি মূলত শক্তি পরীক্ষার খেলা। যারা শক্তি বেশি প্রদর্শন করবে তারাই খেলতে খেলতে এক সময় লুকিয়ে ফেলবে এবং খেলাটি শেষ হবে।

এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত খোলা চলছে। অপ্রীতিকর যে কোন ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা আছে।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: