দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী গোলাম মোস্তফা। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন তাঁকে ২০২৩ সালে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের সম্মাননা ক্রেস্ট ও সম্মাননা সার্টিফিকেট প্রদান করেন।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের কনফারেন্স রুমে এ সংবর্ধনা ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জীবিতেষ চন্দ্র বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাদাৎ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ টাইমস ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ড. এ কে এম সালাউদ্দিন, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সুলতান মাহমুদ হিরক, অধ্যাপক এম এ সামাদ, অধ্যাপক আলতাফ হোসেন, শিক্ষক পারিষদের সম্পাদক রুমিয়া আক্তার, শিক্ষক পরিষদের সাবেক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ফরিদপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ ঘোষাল, প্রবীণ সাংবাদিক মফিজ ইমাম মিলন, কলেজটির বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষকগণ।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আমার বাবা প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক ছিলেন, আমি শিক্ষক পরিবারে সন্তান। আজকের এই গুণীজনদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে খুবই ভালো লেগেছে। তিনি আরও বলেন, আমি ফরিদপুর জেলার সবার চেয়ারম্যান, কারো পকেটের লোক নয়।
সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সুলতান মাহমুদ হিরক বলেন, শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা। ইউনেস্কো শিক্ষকগণকে যে সম্মান দিয়েছে তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রফেসর কাজী গোলাম মোস্তফা আমাদের গর্ব, তাঁকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের সম্মাননা দেওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি আরো বলেন, শিক্ষকগণ ক্যাডার বৈষম্য নিরসনে যে সংবাদ সম্মেলন করেছে তা যৌক্তিক এবং তাঁরা কর্মবিরতি পালনে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারও যৌক্তিকতা রয়েছে বলে আমি মনে করি।
প্রফেসর আলতাফ হোসেন বলেন, আমি অবসরে যাওয়ার দীর্ঘদিন পরে কিছু শিক্ষার্থী এসে বললো, আমাদের বাবা-মা আপনার নিকট পাঠিয়েছে একজন আদর্শ শিক্ষকের সাথে দেখা করতে। আসলেই শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা।
ফরিদপুর মুসলিম মিশনের সম্পাদক প্রফেসর এম এ সামাদ বলেন, আমার ছাত্র প্রফেসর কাজী গোলান মোস্তফা দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হয়েছে এ কথা শুনে গর্বে আমার বুকটা ভরে গেছে।
অনুষ্ঠানের আহবায়ক প্রফেসর তালুকদার আনিসুল ইসলাম বলেন, প্রফেসর কাজী গোলাম মোস্তফা ফরিদপুর জেলার নগরকান্দার কৃতি সন্তান। নগরকান্দা উপজেলার ঝাটুরদিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন প্রফেসর কাজী গোলাম মোস্তফা। তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। ১৯৭১ সালে তাঁর পিতা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি অনাার্স ও এমএসসি পাশ করেন। সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজে প্রভাষক পরে তাঁর কর্মজীবনের যাত্রা শুরু হয়।
এদিকে সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন আমাকে ২০২৩ সালে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের সম্মাননা দিয়েছেন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আমি শ্রদ্ধাভরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামনকে স্বরণ করছি। শিক্ষক দিবসে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার দাবী করছি। আপনারা জানেন, প্রফেসর শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ। যেখানে ৪র্থ গ্রেডের উপরে কোন গ্রেড নেই। আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করার দাবী জানাই। আমাদের এই দাবী যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিকট পৌছায়।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর