পঞ্চগড়ে নাতির কাছে দুধ বিক্রির পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে নাতির হাতে মারধরের শিকার হয় নানা। এক ঘণ্টা পর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নানার মৃত্যু। ঘটনাটি শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়ি ভাষা বাজারের মাছহাটিতে। নিহত নানা হচ্ছেন মজিবর রহমান(৬৫)। তার বাড়ি সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের খাংকিপাড়া গ্রামে। মারধরকারী নাতি নাসিরুল একই এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই নাসিরুল, ফজর, তরিকুল, রফিকুল পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান শুক্রবার রাতে হাড়িভাষা বাজারে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে মজিবর রহমান নাতি (ভাতিজির ছেলে) ও স্থানীয় বাজারের মাছ বিক্রেতা নাসিরুল ইসলাম (২২) ও তার স্বজন ফজর, রফিকুল, তরিকুলদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় অসুস্থ মজিবর রহমানকে উদ্ধার করে বাসায় নেয়া হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বৃদ্ধ মজিবরকে প্রথমে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসকের কাছে এবং পরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে রাতেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার পর নিহতের বড় ছেলে আলাল উদ্দীন বাদী হয়ে নাসিরুল সহ বেশকয়েকজনকে আসামি করে শনিবার বিকেলে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সদর থানা পুলিশ।
নিহতের পরিবারের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার পরে উপজেলার হাড়িভাসা বাজারের মাছহাটিতে নিজ ভাতিজির ছেলে নাতি নাসিরুল ইসলামের কাছে স্ত্রী তনজিনা বেগমকে নিয়ে দুধ বিক্রির ২৫০ টাকা চাইতে যান। এসময় টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন নাসিরুল। এনিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে এক পর্যায়ে নাতি নাসিরুল মাছ কুটার ডাম্বেল (ডাম্বেল হল কাঠের তৈরি যা দিয়ে মাছ বিক্রেতারা মাছ কুটার সময় ব্যবহার করেন) দিয়ে তার নানার বুকে দুই তিনবার আঘাত করেন।
এসময় তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে বাঁচাতে বৃদ্ধের কয়েকজন স্বজন এগিয়ে এলে তাদেরও বেধরক মারধর করে নাসিরুল সহ তার স্বজনেরা। এসময় তারা ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধকে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকেন। পরে তাকে উদ্ধার বাসায় নেয়া হলে মেয়ে ফুলজান বানুর পানি খেতে চান বৃদ্ধ মজিবর রহমান। মেয়ের হাতে পানি খেয়েই রক্ত বমি শুরু হয় বৃদ্ধ মজিবরের। পরে তাকে স্থানীয় হাড়ি ভাসা বাজারে পল্লি চিকিৎসকের কাছে নেয়া হলে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধ মজিবরের মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের স্বজনদের দাবি নাসিরুল মাছ কুটার ডাম্বেল দিয়ে বৃদ্ধ মজিবর রহমানের বুকে আঘাত করায় তার ক্ষত চিহ্ন বুকেই রয়ে গেঁটে।
নিহতের বড় মেয়ে ফুলজান বানু বলেন, আমার চাচাতো বোনের ছেলে নাসিরুলের কাছে দুধ বিক্রির ২৫০ টাকা পেতাম। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই পাওনা টাকা চাইতে যান আমার বাবা মা। তবে সে এখনি টাকা না দিয়ে উলটো তাকে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে আমার বাবাকে মাছ কুটার ডাম্বেল দিয়ে বুকে আঘাত করে নাসিরুল। পরে তার সাথে ফজর, তরিকুল, রফিকুলেরা যোগ দেয়।
আমার বাবাকে বাঁচাতে এলে তারা আমার ভাতিজা নুরুজ্জামান, চাচাতো ভাই সুজনকেও মারধর করে। পরে বাসায় এসে বাবা আমার কাছে পানি খেতে চান। পানি খেয়েই বাবা বমি শুরু করেন। এসময় গলা দিয়ে রক্তও বের হয়। পরে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালেই মারা যান। আমি বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নিহতের ভাতিজা সুজন আলী বলেন, আমি বড় আব্বার সাথেই ছিলাম। তিনি আমার ভাগিনা নাসিরুলের কাছে পাওনা টাকা চাইতে যান। পরে সে মাছ কুটার ডাম্বেল দিয়ে বড় আব্বার বুকে জোড়ে আঘাত করতে থাকে। আমি তাঁকে বাঁচাতে গেলে নাসিরুলেরা আমাকেও মারধর করে। তাদের মারধরেই বড় আব্বার মৃত্যু হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় বলেন, নিহতের মরদেহ সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। এঘটনায় নিহতের বড় ছেলে নাসিরুল সহ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলার এজহার দিয়েছেন। মামলা দ্রুতই আমলে নিয়ে আসামিদের ধরতে আমাদের অভিযান শুরু হবে।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর