
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্প্রে ছিটিয়ে তিন পরিবারের ১২ সদস্যকে অজ্ঞান করে প্রায় চার লক্ষ টাকা ও চার আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ চক্র। শনিবার রাতে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের জিনিদকরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রোববার থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহতদেরকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো চিওড়া বাজারের একতা ট্রেডার্সের মালিক আবদুস সাত্তার শনিবার রাত ১০টায় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যান। ঘরে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ আল কায়েস মাথা ঘোরার কথা জানায়। পরে কায়েসসহ পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে তাঁর পরিবারসহ তিন পরিবারের কেউ ঘুম থেকে না ওঠায় আশপাশের লোকজন গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করে। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন অচেতন অবস্থায় আবদুস সাত্তার, তাঁর পিতা মোঃ শাহজাহান, ছেলে আবদুল্লাহ আল কায়েস, আবদুল্লাহ আল শুভ, পাশের ঘরের মোঃ সোলেমান, তাঁর স্ত্রী রাশেদা বেগম, ছেলে মোঃ সাজ্জাদ, ঝুমুর আক্তার, নুপুর আক্তার ও নিহা আক্তার, অপর ঘরের মোঃ মিলন, মেয়ে মোঃ মিশুকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করান।
অভিযোগ উঠেছে, সংঘবদ্ধ চক্র স্প্রে ব্যবহার করে তিন পরিবারের ১২ সদস্যকে অচেতন করে। পরে অজ্ঞাতনামা চক্রটি রাতের আঁধারে মিলনের ঘরের আলমিরা ভেঙে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ও চার আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চিওড়া বাজারের একতা ট্রেডার্সের মালিক আবদুস সাত্তার বলেন, “কীভাবে এত বড় ঘটনা ঘটলো কিছুই বুঝতে পারিনি। নতুন ঘটনার ভিকটিম হলাম। আমার পরিবারের সবাই অচেতন ছিল। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং সকলের হুঁশ ফিরেছে।”
চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হাসপাতালে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেছি। তবে ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, সে সম্পর্কে কেউ বলতে পারছে না। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।”
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর