নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘বন্দর নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলবে। কিন্তু উন্নতি করতে হলে প্রযুক্তি, অর্থ ও দক্ষতা প্রয়োজন। বন্দর ঘিরে চার–পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বেশিরভাগ বন্দর বেসরকারি অপারেটররা পরিচালনা করে– আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? তাই আমরাও এগিয়ে যেতে চাই।’
সোমবার (১০ নভেম্বর) চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়ার চর কন্টেইনার ইয়ার্ড উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
নৌ-উপদেষ্টা বলেন, আমি এখানে আছি, মরব এখানেই। বন্দর আমাদের জাতীয় সম্পদ। দেশের স্বার্থই এখানে সর্বাগ্রে। আমরা চাই ব্যবসা হোক, কর্মসংস্থান বাড়ুক কিন্তু দেশের স্বার্থের ক্ষতি করে কোনো অপারেটরকে সুযোগ দেওয়া হবে না। বন্দর উন্নয়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এজন্য প্রযুক্তি, অর্থ ও দক্ষতা; এই তিনটি ক্ষেত্রেই আমরা আধুনিকায়নের পথে হাঁটছি।
পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, শুধু পরিবহন টার্মিনাল নয়, সব জায়গাতেই চাঁদাবাজি হচ্ছে। কারা করছে নাম বলতে পারব না। আমরা তো অনুসন্ধান করি না, অনুসন্ধান করেন সাংবাদিকরাই। তবে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ এখানে (বে-টার্মিনাল এলাকায় পরিবহন টার্মিনাল) কেউ এসবের (চাঁদাবাজি) সুযোগ পাবে না। বরং পরিবহন খাতের গাড়িগুলো যখন এখানে আসবে, শহরের যানজট অনেকটা কমে যাবে।
বন্দরের ট্যারিফ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালের ট্যারিফ দিয়ে ৪০ বছর ধরে বন্দর পরিচালিত হয়েছে। এখন সেটি হালনাগাদ করা হয়েছে। ট্যারিফ বাড়ানোর আগে ব্যবসায়ীসহ সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, শ্রমিকদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তবে যেহেতু কিছু অভিযোগ এসেছে, আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষকে তা পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাবো।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১৪ একর জমিতে নির্মিত লালদিয়ার চর টার্মিনালে রয়েছে ১০ হাজার কনটেইনার ধারণক্ষমতা এবং ১ হাজার ৫০০ ট্রাক রাখার ব্যবস্থা। এছাড়া ৮ একর জায়গায় হেভি লিফট কার্গো জেটির ব্যাকআপ ও ১০ একর জায়গায় এপিএম টার্মিনাল এলাকা তৈরি করা হয়েছে।
উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সেদিন বে-টার্মিনাল এলাকায় পরিবহন টার্মিনাল, তালতলা কনটেইনার ইয়ার্ড (ইস্ট কলোনি সংলগ্ন) উদ্বোধন করেন এবং এক্সওয়াই শেড ও কাস্টমস অকশন শেড পরিদর্শন করেন।
বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন ট্যারিফ ও পোর্ট চার্জেস সংক্রান্ত সভায় তার অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরাই ব্যবসা করবে। ১৯৮৪ সালে ট্যারিফ নির্ধারিত হয়েছিল– এখন সময় এসেছে তা হালনাগাদ করার। ব্যবসায়ীরা আয় করছেন ১ হাজার টাকা, বন্দর পাচ্ছে ৫০০ টাকা। আমরা জনবল দিয়ে বন্দর চালাচ্ছি, তাই ট্যারিফ সংস্কার প্রয়োজন।’
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর