ভূমিকম্প শুধুই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। যখন আমরা ইমান সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়ি, আল্লাহকে ভুলে পাপাচারে আকণ্ঠ ডুবে যাই, তখন আল্লাহ আমাদের সতর্ক করার জন্য নানা ধরনের দুর্যোগ প্রেরণ করেন। ভূমিকম্প এর অন্যতম।
মহান আল্লাহ সুরা আরাফের ৭৮ নম্বর আয়াতে বলেছেন, অতঃপর ভূমিকম্প তাদের হঠাৎ পাকড়াও করল আর তারা তাদের ঘরগুলোতে মুখ থুবড়ে পড়ে রইল।
এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা, হযরত সালেহ (আ.)-এর উম্মতের পরিণতি বর্ণনা করেছেন। সামুদ জাতির কাছে একত্ববাদের দাওয়াত পৌঁছাতে আল্লাহ সালেহ (আ.)-কে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সামুদ জাতি তাদের নবীকে অস্বীকার তো করলই, আল্লাহর পক্ষ থেকে অলৌকিক নিদর্শন হিসেবে প্রেরিত উটনিকেও তারা হত্যা করে। যার ফলে তাদের ওপর আল্লাহ ভূমিকম্পের শাস্তি প্রেরণ করেন।
হযরত লুত (আ.)-এর উম্মতের শাস্তির বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন, অতঃপর সূর্যোদয়ের সময় প্রকাণ্ড চীৎকার তাদের পাকড়াও করল। এরপর আমি জনপদকে উল্টিয়ে ওপর-নিচ করে দিলাম এবং তাদের ওপর পোড়ামাটির পাথর-কংকর বর্ষণ করলাম (সুরা হিজর)।
লুত (আ.)-এর সম্প্রদায় সমকামিতার মতো নোংরা ও জঘন্য অপকর্মে লিপ্ত হয়েছিল। সেই অপকর্মের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ উপর্যুক্ত শাস্তি প্রেরণ করেন। তাদের জনপদকে ওলটপালট করে দেন। দুঃখের বিষয় হলো, যে অপরাধের কারণে আল্লাহর ভয়াবহ গজব তাদের ওপর নাজিল হয়েছিল, সেই একই ধরনের গর্হিত কাজ আজ আমাদের সমাজে প্রকাশ্যে ঘটছে। শুধু ইসলাম ধর্ম নয়, প্রচলিত প্রতিটি ধর্মেই সমকামিতা জঘন্য অপরাধ। এমনকি দেশীয় আইনেও এটি সুস্পষ্ট শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অথচ অধিকারের নামে রুচি ও প্রকৃতিবিরুদ্ধ সেই কাজের অনুমোদনের দাবি আজ প্রকাশ্যে করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এমন কিছু অবাধ্যতা আছে, যা কোনো সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে গণহারে আল্লাহর গজব নেমে আসে। তাই আল্লাহর অসন্তুষ্টি ডেকে আনে, এমন সব পাপাচারের বিরুদ্ধে আমাদের প্রত্যেকের সচেতন ও সোচ্চার হওয়া অপরিহার্য।
ভূমিকম্পে আমাদের দুই ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
১. আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিঃ পাপের জন্য তওবা করা, পাপ থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর নৈকট্যলাভের চেষ্টা করা এসবই আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির অংশ।
২. জাগতিক প্রস্তুতিঃ আর ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে যা কিছু করা হয় সেগুলো জাগতিক প্রস্তুতির অংশ।
আমরা এমন এক ভৌগোলিক এলাকায় বসবাস করি, জনঘনত্ব ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এখানে প্রতিটি অট্টালিকা যেন একেকটি সম্ভাব্য সমাধিসৌধ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় যদি ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে এক লাখের বেশি ভবন ধসে যেতে পারে। চিন্তা করুন, এটি কত ভীতিজাগানিয়া পূর্বাভাস! দুঃখজনক হলো, এমন ভয়াবহ ঝুঁকির বিপরীতে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি একেবারেই অপ্রতুল।
তবে প্রস্তুতি যেন কেবল ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না থাকে। জাগতিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আমাদের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিও গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও প্রযুক্তি নিরাপত্তা দিতে পারবে না। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি দুর্যোগ আমাদের প্রতি সতর্কবার্তা। আমাদের সমাজের বিস্তৃত দুর্নীতি, জুলুম, অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে আমাদের গণ তওবা করা জরুরি।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর