গাবতলী বাস টার্মিনালকে একটি তামাকমুক্ত মডেল টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, গণপরিবহনসহ পাবলিক প্লেসে ধূমপান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হলে জনসচেতনতার পাশাপাশি শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করতে হবে।
অনেক সময় দেখা যায় এসব জায়গায় মানুষ নির্বিঘ্নে ধূমপান করে যাচ্ছে। প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে যেহেতু আমাদের হাতে আইন আছে, তাই আইনের যথাযথ প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী তামাকমুক্ত আইন। আমরা মনে করি, শক্তিশালী তামাকমুক্ত আইনের সঠিক বাস্তবায়নই পারে বাস টার্মিনালকে সম্পূর্ণরূপে ধূমপানমুক্ত করতে।
অদ্য রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ সকালে অনুষ্ঠিত "পাবলিক প্লেস ও পরিবহন শতভাগ ধূমপানমুক্ত করতে আইন শক্তিশালী করা হোক"- শীর্ষক মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ডেভলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিস অফ সোসাইটি (ডাস), বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, গাবতলীর সমন্বিত উদ্যোগে কর্মসূচি দুটি যথাক্রমে গাবতলী বাস টার্মিনালের সম্মুখে এবং মালিক সমিতির হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়।
ডেভলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিস অফ সোসাইটি (ডাস)-এর টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুলের সভাপতিত্বে কর্মসূচিপর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজী মো: হানিফ, সাবেক জেনারেল সেক্রেটারি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও স্বত্বাধিকারী হানিফ এন্টারপ্রাইজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান হাজী মো: সামিউল্লাহ, স্বত্বাধিকারী- দিগন্ত পরিবহন এবং বজলুর রহমান রতন, স্বত্বাধিকারী- দেশ ট্রাভেলস। ডাস-এর কর্মসূচি সমন্বয়কারী মোয়াজ্জেম হোসেন টিপু’র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানববন্ধনে ডাস-এর টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুল এবং আলোচনা সভায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)-এর দপ্তর সম্পাদক সৈয়দা অনন্যা রহমান।
অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন - বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট-বাটা’র ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী এবং প্রত্যাশা-মাদক বিরোধী সংস্থার সভাপতি হেলাল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, মো: কিসমত- পরিবহন মালিক সমিতি, মো: আলমগীর কবির, ম্যানেজার- শ্যামলী পরিবহন, মো: সুজন, ম্যানেজার- রাহবার পরিবহন, মো: মোশাররফ হোসেন, জিএম- হানিফ পরিবহন, চুন্নু মিয়া, ম্যানেজার- হানিফ পরিবহন, টিসিআরসি’র বিভূতি ভূষণ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট-এর মো: আজিম হোসেন প্রমুখ।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে দু’টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন। প্রথমত: কোনো গাড়ির স্টাফ যদি ধূমপান করে তবে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং দ্বিতীয়ত: টার্মিনালের অভ্যন্তরে কোনো যাত্রী যত্রতত্র ধূমপান করতে না পারে সে দিকে দৃষ্টিপাত করা। পাশাপাশি টার্মিনালের ভেতরে বিড়ি সিগারেট বিক্রি বন্ধ করার জন্য সম্মিলিতভাবে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান। তামাক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান যে আইন আছে সেটাকে আরও শক্তিশালী করে সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ করার জন্যও সরকার সহ সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি অনুরোধ করেন।
সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পাবলিক পরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছাড়াও চালক ও হেল্পারগণ মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। এজন্য দরকার চালক ও হেল্পারদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিজেদের অধূমপায়ী হওয়া। তিনি পরিবহন মালিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আইনানুযায়ী প্রত্যেকটি পরিবহনে নিজ উদ্যোগে দৃশ্যমান জায়গায় “ধূমপান হইতে বিরত থাকুন, ইহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ”-লেখা সম্বলিত সাইনেজ লাগানোর কথা থাকলেও সরেজমিনে তার বাস্তবায়ন তেমন একটা পরিলক্ষিত হয় না বললেই চলে। তাই এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকল মালিকদের পরামর্শ দেন।
বক্তারা মনে করেন, পরিবহন শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাস টার্মিনালগুলোতে অবাধে ধূমপান বন্ধের পাশাপাশি টার্মিনাল এলাকায় যত্রতত্র সিগারেটের দোকান বসতে না পারে এবং টার্মিনালের সার্বিক পরিবেশ যাতে সুষ্ঠুভাবে বজায় থাকে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দিতে হবে। গণপরিবহনে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর ও বাস্তবায়নে বাস মালিক সমিতির উদ্যোগে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার ব্যবস্থা করতে হবে।
কর্মসূচিদ্বয়ে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন নাগরিক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, মালিক সমিতি, কাউন্টার ম্যানেজার ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর