ভেনেজুয়েলার মাটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাশিয়া একে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের এই আচরণ কেবল অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। মস্কো মনে করছে, আদর্শিক শত্রুতা এখন বাস্তবসম্মত কূটনীতির ওপর প্রাধান্য পাচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে যে, ল্যাটিন আমেরিকাকে ২০১৪ সালে ‘শান্তি অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু মার্কিন এই হামলা সেই শান্তিকে চুরমার করে দিয়েছে। রাশিয়ার মতে, বাইরের কোনো ধ্বংসাত্মক হস্তক্ষেপ ছাড়াই ভেনেজুয়েলার মানুষের নিজের ভাগ্য নিজে নির্ধারণ করার অধিকার থাকা উচিত। তারা ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বলিভারিয়ান নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্টো জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন কারাকাসের বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। রাশিয়ার দূতাবাস বর্তমানে কারাকাসে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। মস্কো সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, সংঘাত নয় বরং সংলাপই হতে পারে যেকোনো সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় বড় আকারের বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। তার দাবি অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে গেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই দাবি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করবে।
সুত্র: তাসের
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর