সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় শীতে কাঁপছে যমুনা পাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জ। রবিবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। গতকাল ছিল ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। সাধারণ মানুষ শীতের কারণে জবুথবু হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা শীতের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কৃষকরা ক্ষেতে কাজ করতে পারছে না। তীব্র শীতে দিনমজুরদের কাজ না থাকায় আর্থিক সংকটে ভুগছে।
পেটের তাগিদে রিকশা শ্রমিকরা গায়ে গরম কাপড় জড়িয়ে রাস্তায় বেরোলেও তেমন যাত্রী পাচ্ছে না। অন্যদিকে, তীব্র শীতে সাধারণ মানুষ কষ্ট পেলেও সরকার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
সিয়াম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের এই শীতের মধ্যে স্কুলে ও প্রাইভেট পড়তে যেতে হয়, খুব কষ্ট হয়। তার পরেও কষ্ট করে যেতে হয়।”
রিকশাচালক ইমরান হোসেন ও জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, “শীতে বের হয়েছি। ঘন কুয়াশা এবং শীতের কারণে যাত্রী নেই। রাস্তায় চলতে হচ্ছে একেবারে ধীর গতিতে। হিমেল হাওয়ার কারণে কেউ রিকশায় চড়তে চায় না। জরুরি কাজে বের হচ্ছে তারা হেঁটেই যাচ্ছে।”
বয়োবৃদ্ধ সমের আলী জানান, “শীতের কারণে কোনো কাজকর্ম নেই। বাইরে বের হলেই হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। আমার বয়সে এমন শীত দেখিনি। কাজকর্ম না থাকায় আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে।”
ট্রাক ড্রাইভার রজব আলী জানান, “মহাসড়ক কুয়াচ্ছন্ন রয়েছে। হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এতে গাড়ি চালাতে অসুবিধা হচ্ছে। দিনেই হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।”
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া অফিসার মোস্তফা কামাল জানান, “এ বছরের আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।” এবং তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, “সর্বনিম্ন ১১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।”
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেত জানান, “ইতিমধ্যে জেলায় প্রায় ২৬ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের কাছে আরও চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে বিতরণ করা হবে।”
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন জানান, “শীতে যতদূর সম্ভব ঘর থেকে কম বের হতে হবে। বের হলে শীতের কাপড় পরতে হবে যাতে শরীর উষ্ণ থাকে। তা না হলে শীতজনিত রোগ সর্দি-কাশি, হাঁপানি, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়তে পারে।”
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর