জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল-ছাত্রঅধিকার সমর্থিত “ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান” প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা অপপ্রচার, ট্রল ও কটূক্তির জবাব দিতে ফেসবুক লাইভে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে লাইভে এসে খাদিজা বলেন, “ছাত্রদল কখনো ধর্ম ব্যবসা করে না। আমি নির্বাচনে পরাজিত হলেও ছাত্রদল ছাড়বো না।”
তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে কিছু ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তাকে ধর্মবিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
লাইভ বক্তব্যে ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচন স্থগিতের দিন ভাইরাল হওয়া মাইক কাড়াকাড়ির ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এডিট করে প্রচার করা হয়েছে। সেদিন জকসু নির্বাচনের দাবিতে সম্মিলিত আন্দোলন চলছিল, সেখানে কোনো দলীয় স্লোগান বা নারায়ে তাকবির দেওয়ার পরিস্থিতি ছিল না।”
তিনি আরও জানান, ভিডিওটি ভালোভাবে দেখলে বোঝা যায় তিনি নিজে মাইক ধরেননি; বরং অন্য কেউ সেটি ধরেছিল। তবুও তাকে নাস্তিক ও ধর্মবিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ছাত্রদলের হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খাদিজা ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, “শিবিরের পক্ষ থেকেও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তারা জানিয়েছিল, মেয়েরা বা আমি সুপার থ্রি (ভিপি, জিএস, এজিএস) পদের যোগ্য নই। আমাকে শুধু সম্পাদকীয় পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়। নারীদের নেতৃত্ব নিয়ে তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই আমি ছাত্রদলকে বেছে নিয়েছি।”
অনলাইনে অপপ্রচার প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “৩০ ডিসেম্বরের আগে আমাকে থামানোর কোনো ইস্যু না পেয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে ভিক্টিম কার্ড খেলা হয়েছে। অথচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল কোথাও চাঁদাবাজি করেনি, তারা সবসময় ওপেন রাজনীতি করেছে।”
পরাজয় সত্ত্বেও সংগঠনের প্রতি নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে খাদিজা বলেন, “আমি পদের লোভে রাজনীতিতে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। যত অপপ্রচারই হোক, আমি ছাত্রদলের সঙ্গেই থাকবো এবং দলকে সংগঠিত করতে কাজ করে যাবো।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে ভোটগ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভিসি ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শিবির সমর্থিত প্রার্থী শান্তা আক্তারের ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দেওয়ার সময় মাইক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল সমর্থিত জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা ও অন্যদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর