বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার কুড়িগ্রামের কিশোরী ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন নবীন সৈনিক হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগ দিয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ব্যাচেই আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন আরফান হোসেন।
কুচকাওয়াজ শেষে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমার বোনকে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। আমি সেই সীমন্তের রক্ষী হয়ে নবীন সৈনিক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছি। আমি চাইবো না সীমান্তে আমার বোনের মতো আর কারও বাবা-মা সন্তান হারাক।
তিনি বলেন, আমি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী হিসেবে সর্বদা চেষ্টা করবো সীমান্তে কারও বোন বা মা-বাবাকে এভাবে হত্যা করা না হয়।
তিনি আরও বলেন, আমার বোনকে মেরে ফেলার পর আমার এবং আমার মা-বাবার স্বপ্ন ছিল আমাকে বিজিবিতে যোগ দিতে হবে। আমি সীমান্ত রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকবো। চার মাস প্রশিক্ষণ শেষে আজ আমি নবীন সৈনিক। আমার জীবন বিপন্ন হলেও আমি চেষ্টা করবো যেন কোনো বাবা-মায়ের সন্তানকে আমার বোনের মতো গুলি করে হত্যা করা না হয়।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রামখানা–অনন্তপুর সীমান্তে কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
এ হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে সীমান্তে বেসামরিক নাগরিক হত্যার একটি প্রতীকী ঘটনায় পরিণত হয়। সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে কূটনৈতিক এলাকার প্রধান সড়কের একটি অংশের নামকরণ করা হয়েছে ‘ফেলানী এভিনিউ’, যা ওই ঘটনার স্মৃতিকে রাষ্ট্রীয় পরিসরে স্মরণ করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর