বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মিনতি খাতুন (৩০) ওরফে বিরতি খাতুন নামে এক তরুণী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরে স্বজনদের না জানিয়ে তারাহুরা করে দাফন করা চেষ্টা করা হয়েছিল।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় উপজেলার গারিদহ ইউনিয়নের বনমরিচা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিনতি খাতুন ওই গ্রামের ব্যবসায়ী কবির হোসেন বাবুর স্ত্রী ও নিহত মিনতি খাতুন ধুনট উপজেলার মৃত মোজহার আলীর মোজার মেয়ে।
জানা যায়, শুক্রবার রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতে হঠাৎ পড়ে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মিনতি খাতুন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করলে ভোর সাড়ে ৪টার শজিমেক হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বামী কবির হোসেন বাবু জানান, ব্যবসায়িক কাজে তিনি রাতে বাইরে ছিল। রাত ২টার দিকে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে অসুস্থ দেখে দ্রুত স্বজনদের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী বলেন, ভোর ৬টার দিকে মরদেহ বাড়িতে আনা হয় এবং সকাল ৮টার দিকে তড়িঘড়ি করে গোসলের কাজ সম্পন্ন করে দাফনের চেষ্টা করে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত মিনতির ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমার বোন মারা গেলে আমাকে জানায়নি। প্রতিবেশিরা আমাকে মোবাইল করে জানানিয়েছে মিনতি মারা গেছে ধোয়ানো শেষ তোমরা আসলে দাফন করানো হবে। তখন থেকে সন্দেহ যে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারণ কিছুদিন আগে সে নাকি আরেকটা বিয়ে করেছে এ নিয়ে মাঝে মধ্যে বোনকে মারধর করতো।
তিনি আরো জানান, ১৫ বছর আগে কবির হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের সংসারে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া দুটি সন্তান রয়েছে।
শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিক জানান, রাত ৩টার দিকে রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর