নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানিকালে আইনজীবীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। শুনানি শেষে তাঁর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব, এলিটইজম ও ভোটার অবমাননার অভিযোগ তুলে ধরেন এনসিপির কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ।
নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে তিনি আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সমালোচনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। এর আগে দুপুরে বিরোধী আইনজীবীদের ওপর মেজাজ হারিয়ে ফেলেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে অনেকে ঘুরে ঘুরে নতুন বেশে নির্বাচনের সময় দেশে আসেন। যদি জিতে যাই, ডুয়েল সিটিজেনশিপ প্রত্যাহার করি। না হলে বেগম পাড়ায় (কানাডার একটি এলাকা) ফিরে যাই। ইসির শুনানিতে এই দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে প্রত্যেক আইনজীবী একাডেমিক পরিবেশে যখন তাঁদের সাবমিশন দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় আলোচনার শেষে আব্দুল আউয়াল মিন্টু জহিরুল ইসলাম মুসার (এনসিপির আইনজীবী ও নেতা) দিকে তেড়ে আসেন। 'ব্লাডি সিটিজেন' বলেন। আর উনি হচ্ছেন এলিট ব্রিড। তিনি আইনজীবীদের ভারবালি অ্যাবিউজ করেন। আমরা কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করি যে কমিশনের ভেতরে কিছু কিছু প্রার্থী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে তেড়ে আসে। কিছু কিছু প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের বাইরে অন্য প্রার্থীদের পেটাতে থাকে। তাহলে এই অবস্থা যদি চলতে থাকে, যারা প্রার্থী তাদের কী হবে।
তিনি বলেন, যারা এলিটইজম করতে আসে আমাদের দেশে, তারা যেন এলিটইজম ঘরে রেখে জনগণের সামনে আসেন। আপনারা জনগণকে 'ব্লাডি সিটিজেন' বলবেন, আবার ভোটের জন্য 'ব্লাডি সিটিজেনের' কাছে যাবেন, এই ধরনের দ্বিচারিতা আমরা সহ্য করব না। সকল ধরনের এলিটইজম ৫ আগস্টের পরে ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে পলিটিক্যাল এলিটইজমের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইটা ছিল।
এই আব্দুল আউয়াল মিন্টুদের মতো যারা বিদেশে টাকা পাচার করে, বিদেশে থাকে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আত্মীয়তা করে, বিভিন্ন বিজনেস করে, শেখ রেহানার সঙ্গে যখন বিজনেস করে নিজের বিজনেস টিকিয়ে রাখে, তাদের এলিটইজম করতে আসে। আমাদের এই সিভিলিয়ানদের যখন বলবে 'ব্লাডি সিটিজেন', প্রত্যেকটা নাগরিককে, প্রত্যেকটা ভোটারকে মানহানি করেন। আমরা কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যেন তাঁকে ওয়ার্নিং দেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মতো যারা এলিট ব্রিড আছে, আপনারা কোন মুখে আমাদের 'ব্লাডি সিটিজেন' বলে আবার গরিবদের কাছে ভোটের চাইতে যাবেন? আপনারা নির্বাচনের আগে ইস্ত্রি করা পাঞ্জাবি, লম্বা টুপি পরে একদম ইরি ক্ষেত্রে নেমে যান, এগুলো মানুষ এখন হিপোক্রেসি বোঝে। আপনার গার্মেন্ট শ্রমিক, ফুটপাতে যে এখন যাচ্ছেন ভোট চাইতে, 'ব্লাডি সিটিজেনের' কাছে, আপনারা ম্যান্ডেটের বেলায় ঠিকই আছে। রাস্তায় রক্ত দেয় 'ব্লাডি সিটিজেনরা', 'ব্লাডি সিটিজেনের' রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা বিদেশে ব্যবসা করেন, ছেলে-মেয়েদের বেগম পাড়ায় রাখেন। সেফ এক্সিট নেন, ডুয়েল সিটিজেনশিপ নেন। নিরাপদ যখন দেখেন, 'ব্লাডি সিটিজেনদের' রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আবার নির্বাচনে অংশ নেন, আবার নির্বাচনে যখন উত্তর-দক্ষিণ দেখবেন আবার পালিয়ে যাবেন। এই ধরনের বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই না। এজন্যই আমরা আপত্তি জানিয়েছি। জহিরুল ইসলাম মুসার প্রতি যে আচরণ হয়েছে, সকল পক্ষের আইনজীবী, বিএনপি আইনজীবী; সকল পক্ষই তারা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর আচরণে আহত হয়েছেন। তারা সেটার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই পলিটিক্যাল এলিটইজমের নিপাত অবশ্যই ঘটতে হবে। এই রাজনীতি যদি তারা করতে চান, 'ব্লাডি সিটিজেনরা' তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, কমিশন জাস্ট বিষয়টা এড়িয়ে গেছেন, স্বয়ং নির্বাচন কমিশনের সামনে প্রার্থীকে মারা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নুর (ভিপি নুর) ভাইকে মারা হয়েছে, আমরা প্রক্টরকে বললাম, তিনি বললেন লিখিত দেন। আমাদের একজন প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের সামনে মধ্যযুগীয় কায়দায় পেটানো হয়েছে, যার যার এলাকায় ত্রাসের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, লিখিত দেওয়ার জন্য। ওনারা কিছুই দেখেননি, হট্টগোল দেখেছেন। হাদী ভাইয়ের ওপর হামলাকে ওনারা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলার চেষ্টা করছেন, নির্বাচন কমিশন যদি এই সমস্ত ঘটনাগুলো কঠোরভাবে অ্যাড্রেস না করে, তাহলে ফ্যাসিবাদী বিরোধী আন্দোলনে যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের রক্ত বৃথা যাবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর